কলকাতা: রবিবাসরীয় প্রচারে ঝাড়গ্ৰামে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই ছবি-ভিডিও সমাজমাধ্যমে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে চর্চা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঝালমুড়ি নিয়ে আসরে মদন মিত্র। সোমবার ভোটের প্রচারে মদন মিত্রের সঙ্গে দেখা যায় অভিনেত্রী শ্রীতম ভট্টাচার্যকে। ঝালমুড়ি খাওয়া প্রসঙ্গে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেন কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্র। আগরপাড়া স্টেশনে ভোট প্রচারে একেবারে ঝালমুড়ির দোকান নিয়ে হাজির হন মদন মিত্র।
কটাক্ষের সুরে মদন মিত্র বলেন, "উনি আমাদের কাছে একটা আশীর্বাদ। মোদী যত আসবেন, আমাদের হারানো যৌবন তত ফিরে আসবে। উনি যতবার মুড়ির দোকানে গিয়ে নাটক করবেন, পরের দিন থেকে আমরাও সকাল বেলা বেরিয়ে মুড়ি খেতে থাকব। এই যে মুড়ি খেতে খেতে উনি যে প্রতিশ্রুতির কথা বললেন; দু'কোটি চাকরি, ১৫ লক্ষ নগদ, ৩০০০ করে ব্যাঙ্কে, আজ পর্যন্ত একটা সত্যি কিছু হয়েছে? উনি মুড়ি খেতে খেতে আবার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।"
তাঁর দাবী, "তৃণমূল কিন্তু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা যা প্রতিশ্রুতি ছিল, এমনকি যুবসাথীও সব জায়গায় করছি।" এই সময় রামায়ণের মারিচ রাক্ষসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, "মোদী শুধু আসছেন। মারিচ রাক্ষস যেমন সাধুর বেশে রামের কাছে এসেছিল। তেমন উনি (নরেন্দ্র মোদী) নানান চরিত্রে, নানা সাজে আসছেন। এটা বন্ধ হোক।"
মদন মিত্রের কথায়, "মানুষ জানুক কাল মোদী যে এটা খেয়ে গেছেন, এটা মোদীর খাবার নয়, নাটকের খাবার। একটুখানি খেয়ে থু করে মুখ দিয়ে ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এই মুড়িটা খুব মন দিয়ে খাই।" তাঁর কটাক্ষ, "এই মুড়ি খাওয়া হল মোদীর ওই ঢাপলি ওয়ালে। ঢপ দেওয়ার চেষ্টা। উনি বাঙালিকে ঘেন্না করেন। তাঁর প্রমাণ; ক্যায়া রবীন্দ্রনাথ সান্যাল? ক্যায়া বঙ্কিম দা ক্যায়সে হ্যায়। যেন ওনার বন্ধু! পৈতৃক।"
তৃণমূল প্রার্থী বলেন, "আমরা আজ এখানে এটা প্রতীকী প্রতিবাদ করলাম।" এখানেই থামেননি মদন মিত্র। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চরম কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "এই যে মুড়ি খেয়ে কালকে উনি করে গেছেন। আবার দুদিন পর উনি আসছেন, দেখবেন উনি সেদিন কাবুলিওয়ালা হয়ে এসছেন। আমার মনে হয়, শেষে মোদী আসবেন রাস্তার মেথর হয়ে। কারণ ওঁদের তৈরি করা নোংরা কে ফেলবে! মোদীর এই নোংরামি বাঙালি ধরে ফেলেছে।"
বঙ্গ রাজনীতিতে মুড়ির মাহাত্ম্য কিন্তু এই প্রথম নয়। এর আগেও ভিন্ন রূপে ফিরে এসেছে এই মুড়ি আবার কখনও ঝালমুড়ি। ২০২২-এর শুরুর দিকে জিএসটি বৃদ্ধি প্রতিবাদ নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধোনা ও হাতে হাতে মুড়ি বিলি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মমতার মন্তব্যে বিতর্কের পর বিধানসভার বাইরে বিজেপি বিধায়করা ঝালমুড়ি ও ঘুঘনি বিক্রি করেছিলেন। আর এবারে ছাব্বিশে নির্বাচনেও ফিরে এল সেই ঝালমুড়ি।

No comments:
Post a Comment