নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: উত্তরাধিকারহীন সম্পত্তি দখল করে দলীয় কার্যালয় করেছিল তৃণমূল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সেই দলীয় কার্যালয় তুলে দিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র করল বিজেপি। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার পূর্বাচল এলাকায়। এদিন স্থায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পেয়ে খুশি শিক্ষিকা থেকে শুরু করে এলাকাবাসীও।
স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রের খবর, দত্তপুকুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বাচল এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত চৌধুরী ছিলেন নিঃসন্তান। ওই দম্পতির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারহীন সম্পত্তি পড়ে ছিল। অভিযোগ, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সেটা দলীয় কার্যালয় তৈরি করেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অন্তরা যাদব দত্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল কার্যালয় তৈরি হলেও সন্ধ্যার পরে সেটা পরিণত হয় নেশা কেন্দ্রে। রাতের অন্ধকারে এখানে মদ-গাজার আসর বসত। অথচ এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চলত এলাকার একটি ক্লাবঘরে।
দীর্ঘদিন ঘরে প্রতিবাদ জানালেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের। এরই মধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। এরপরেই তৃণমূলের এই দখল করা দলীয় কার্যালয় বিজেপি নিজেদের করে নেয়। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে সেই কার্যালয়টি তারা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র করে দিল শনিবার। স্থায়ী জায়গা পেয়ে খুশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকাও।
স্থানীয় বিজেপি কর্মী অনিন্দ্য ভদ্র বলেন, "বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলের কর্মী সমর্থকরা এটা নিজেদের দলীয় কার্যালয় করে নেয়। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র করে দিয়েছি আমরা।'
স্থানীয় বাসিন্দা মিতা পাল বলেন, "এই দলীয় কার্যালয় দলের মিটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হত। আগেও এটিকে স্কুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু করতে দেওয়া হয়নি। তা দলের চাপ বা যে কারণেই হোক। কিন্তু আজ বাচ্চাদের জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র হওয়ায় আমরা খুব খুশি।"
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অন্তরা যাদব দত্ত যাদবের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তাঁর স্বামী তথা তৃণমূল নেতা জানান, আগে যা হয়েছিল ভুল ছিল। এখন যা হয়েছে ভালো হয়েছে।
অন্যদিকে, দত্তপুকুর এক গ্রাম পঞ্চায়েতের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের সঞ্চালক তথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য অরিন্দম মুখার্জি অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, দলীয় কার্যালয়ে কোনও অসামাজিক কাজ হত না। এখন নির্বাচনের জিতে যার যা মনে হচ্ছে করছে। তিনি বলেন, "যাঁর জমি ছিল তিনি ২০২৩ সালে মারা যান । এরপর এটাকে দলীয় কার্যালয় করা হয়। এবার এখন যাদের যেটা মনে হচ্ছে করছে। আমাদের এতে কিছু বলার নেই।"

No comments:
Post a Comment