ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ মে২০২৬: কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি.ডি. সথীশান। ২০২৬ সালের কেরল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর বিপুল ভোটে জয়ের পর, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেদিকেই ছিল সকলের দৃষ্টি। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হল নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম। কংগ্রেস দল অবশেষে ভি. ডি. সথীশানের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করতে কংগ্রেসের দীর্ঘ ১০ দিন সময় লেগে গেল। রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত কে. সি. ভেনুগোপালও এই পদের দৌড়ে ছিলেন। কিন্তু সথীশানকে করা হল মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস দল ভি. ডি. সথীশানকে কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে। কেরলে কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার নেপথ্যের কারিগর হলেন এই সথীশান। এরই সাথে রাজ্যে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের এক দশকব্যাপী শাসনের অবসান ঘটল।
কে এই ভি.ডি. সথীশান?
১৯৬৪ সালে কোচির নিকটবর্তী নেত্তুরে জন্মগ্রহণ করেন ভি.ডি. সথীশান। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল দিল্লীর ক্ষমতার অলিন্দে নয় বরং মাটির স্তর থেকে। পেশায় একজন আইনজীবী ও সমাজকর্মী সথীশান কেরালা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ)-এর মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সথীশান ২০০১ সাল থেকে একটানা পারাবুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাঁকে কংগ্রেস দলের মধ্যে এক তরুণ ও সংস্কারপন্থী প্রজন্মের নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার জন্য পরিচিত।
সথীশানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২১ সালে, যখন কংগ্রেস অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁকে বিরোধী দলের নেতা নিযুক্ত করে। সে সময় অনেকেই সন্দিহান ছিলেন, কারণ তাঁর প্রশাসনিক বা মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে, গত পাঁচ বছরে তিনি পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি দুর্নীতি, স্বর্ণ চোরাচালান কেলেঙ্কারি এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলিতে বাম সরকারের তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চার করেছেন।
সথীশানের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি ছিল যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনী প্রচারণার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এক দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। কর্মীরা বিশ্বাস করেন যে যিনি লড়াই করেছেন, মুকুট তাঁরই প্রাপ্য। ইউডিএফ-এর সবচেয়ে প্রভাবশালী মিত্র, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), প্রকাশ্যে সথীশানেরকে সমর্থন করেছিল। কেরলের মধ্যবিত্ত এবং যুবদের মধ্যে সহজলভ্য ও আধুনিক নেতা হিসেবে ভাবমূর্তি রয়েছে তাঁর।
সতীশানের পথের সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন কে.সি. ভেনুগোপাল। ভেনুগোপাল রাহুল গান্ধীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং দিল্লীতে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কংগ্রেস হাইকমান্ড একটি উভয়সংকটে পড়েছিল; একজন মাঠপর্যায়ের যোদ্ধা নেতাকে বেছে নেওয়া, নাকি দিল্লীর একজন বিশ্বস্ত কৌশলবিদকে।
বিরোধীরা যুক্তি দিয়েছিল যে সথীশান একজন শক্তিশালী বিরোধী নেতা হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনও মন্ত্রী পদে ছিলেন না। কিছু কংগ্রেস নেতা আশঙ্কা করেছিলেন যে, মুসলিম লীগের প্রকাশ্য সমর্থন বিজেপিকে তোষণ নীতির আখ্যান তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে। তবে, কংগ্রেস সমস্ত বিরোধিতা প্রত্যাখ্যান করে সথীশানকেই কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয়।

No comments:
Post a Comment