কলকাতা: দলে গৃহদাহের মাঝেই আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
সরকারি কোনও জায়গা আটকে রেখে সভা, সমাবেশ, মিছিল করা যাবে না বলে ২০১৮ সালে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তার পরেও প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় রাস্তা আটকে তৃণমূলের অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সভা হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা হয়। সেই মামলায় বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই কলকাতায় রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মৃত্যুর ঘটনায় ও তার প্রতিবাদে ওই দিনে 'শহিদ দিবস' হিসেবে পালন করে তৃণমূল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে ধর্মতলায় ভিক্টরিয়া হাউসের সামনে রাস্তার উপরেই তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ শুরু হয়। দিন যত পেরিয়েছে, বহর বেড়েছে সমাবেশের।
২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সেই মামলায় রায় দেয়। সেই রায়ে জনসাধারণের চলাচলের পথ অবরোধ করে কোনও সভা বা মিছিল করা যাবে না বলে জানানো হয়। তা সত্ত্বেও, তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছর ধর্মতলায় রাস্তা আটকেই একুশে জুলাই কর্মসূচি পালন করে। কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় শহর কলকাতা। রাস্তা থেকে বাস, গাড়ি, অটো তুলে নেওয়া হয়। ধর্মতলার অভিমুখে নিয়ে আসা হয় তৃণমূল সমর্থক-কর্মীদের। শহর কলকাতা কার্যত অঘোষিত ছুটির আকার নেয়। এমনকি আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করে ২০২৫ সালেও ২১ জুলাইয়ের এই সমাবেশ করা হয় বলে অভিযোগ।
আর এই রাস্তা আটকে একুশে জুলাই করার বিরুদ্ধে অক্ষয় কুমার সারঙ্গি নামে এক ব্যক্তি আদালত অবমাননার মামলা করেন। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানির হবে ৩ জুলাই। তারপরই নির্ধারিত হতে পারে তৃণমূলের একুশে জুলাই কর্মসূচি আর ধর্মতলায় অনুষ্ঠিত হবে কিনা!

No comments:
Post a Comment