কিডনি আমাদের শরীরের একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ, যা প্রধানত অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার জন্য দায়ী। এটি রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে শরীর থেকে বের করে দেয়। তবে, আজকের দিনের জীবনযাত্রার অবনতির কারণে কিডনি-সম্পর্কিত রোগ দ্রুত বাড়ছে।
ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) বর্তমানে বহু মানুষকে প্রভাবিত করছে। এই স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য সঠিক যত্ন এবং সতর্কতা অপরিহার্য। স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সময়মতো ঔষধ গ্রহণ এবং নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা অপরিহার্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ১৩.২৪ শতাংশ CKD-তে ভুগছেন, যার অর্থ প্রতি আটজন ভারতীয়ের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত।
কিডনি রোগ শরীরকে দুর্বল করে দেয়
কিডনি আমাদের রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ অপসারণ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) এমন একটি শারীরিক অবস্থা যেখানে সময়ের সাথে সাথে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে এর কার্যক্ষমতা কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসকে এই গুরুতর অসুস্থতার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) হলে কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগী অন্যান্য সংক্রমণের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে যায়।
কিডনি রোগীরা শিঙ্গলস নিয়ে আতঙ্কিত থাকেন
কিডনি রোগীদের মধ্যে 'শিংলস' হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায়। শিংলস হলো ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাস (VZV) আবার সক্রিয় হয়ে ওঠার ফলে হওয়া একটি সংক্রমণ। এই ভাইরাসই আগে চিকেনপক্স (জলবসন্ত) ঘটায়।
একবার চিকেনপক্স হলে ভাইরাসটি শরীরের স্নায়ুর মধ্যে দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকে। পরে যদি ক্রনিক কিডনি রোগে (CKD) কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়, তাহলে শরীরের টি-সেল ইমিউনিটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন শরীর আর ওই লুকিয়ে থাকা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে ভাইরাসটি আবার সক্রিয় হয়ে শিংলস রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
শিংগেলসের প্রধান লক্ষণসমূহ
শিংগেলসের কারণে শরীরে লাল ফুসকুড়ি এবং বেদনাদায়ক ফোসকা হয়। ফুসকুড়ি সেরে যাওয়ার অনেক পরেও অনেক রোগী ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। এই অবস্থা, যা চিকিৎসাগতভাবে পোস্ট-হার্পেটিক নিউরালজিয়া (PHN) নামে পরিচিত, তা সপ্তাহ বা মাস ধরে স্থায়ী হতে পারে।
'শিংগেলস অ্যাকশন উইক ২০২৬'-এর সাথে সম্পর্কিত একটি বিশ্বব্যাপী সমীক্ষা অনুসারে, শিংগেলসে আক্রান্ত প্রায় ৪৩% ভারতীয় অসহ্য ব্যথার কথা জানিয়েছেন যা তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। এছাড়াও, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন রোগী স্বীকার করেছেন যে এই অসহ্য ব্যথার কারণে তারা কাজ করতে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) এবং শিংগেলসের মধ্যে সম্পর্ক
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য শিংগেলস কার্যত শারীরিক কার্যকলাপ এবং স্বাভাবিক রুটিন থামিয়ে দিতে পারে। শিংগেলসের কারণে সৃষ্ট অস্বস্তি এবং বেদনাদায়ক ফুসকুড়ি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং স্বাস্থ্যকে আরও দুর্বল করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে, ডাক্তারের কাছে যাওয়া, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এবং একটি খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
একই সাথে এই দুটি গুরুতর অসুস্থতার সাথে মানিয়ে চলা রোগী এবং তার পরিবার উভয়ের জন্যই প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণ হয়। সিকেডি (CKD) যদি তার চূড়ান্ত পর্যায়ে, অর্থাৎ এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ (ESRD)-এ পৌঁছায়, তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। এই কারণেই, চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক প্রতিরোধ কেন অপরিহার্য?
কিডনি (CKD) রোগীদের সহজে প্রতিরোধযোগ্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ। শিঙ্গলসের মতো রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকাদান একটি চমৎকার উপায়। এই টিকা সংক্রমণ এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যা রোগীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।

No comments:
Post a Comment