পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি দফতরে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগকারী সংস্থার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন দফতর দীর্ঘদিন ধরেই চুক্তিভিত্তিক কর্মী সরবরাহকারী সংস্থার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আবার কাজে নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কোথাও কোথাও চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
সরকারের মতে, এই প্রবণতা সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি এতে অধস্তন কর্মীদের পদোন্নতির সুযোগ কমে যায় এবং সরকারি ব্যয়ের উপরও প্রভাব পড়ে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছভাবে নেওয়ার জন্য নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বা কোনও কর্মীর অবসরের অন্তত তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট দফতরকে বিকল্প কর্মী নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে দায়িত্ব হস্তান্তর এবং নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।
এছাড়া প্রতিটি দফতরের প্রধানকে সম্ভাব্য শূন্যপদগুলির তালিকা প্রতি মাসে পর্যালোচনা করে তা নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে, যাতে সময়মতো নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
সরকার স্পষ্ট করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি বা পুনর্নিয়োগ কোনওভাবেই নিয়মিত প্রথা হতে পারে না। কেবলমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, উপযুক্ত বিকল্প কর্মী না থাকলে বা জনস্বার্থে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে পুনর্নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অনুমোদন ছাড়া কোনও কর্মীর মেয়াদ বৃদ্ধি বা পুনর্নিয়োগ করে পরে অনুমতি চাওয়ার প্রবণতা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সময়মতো শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ না নিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই নির্দেশ শুধু সরকারি দফতরের জন্য নয়। স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, আইন দ্বারা গঠিত বিভিন্ন সংস্থা এবং অন্যান্য আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন নির্দেশিকা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রতিটি দফতরের প্রধানের উপর থাকবে। তাঁদের নিজ নিজ দফতরে এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও তাঁদের দায়িত্ব।

No comments:
Post a Comment