'বন্দে মাতরম বিল ২০২৬' কী? জেনে নিন নতুন আইনের বিধান ও লঙ্ঘন করলে কত হতে পারে শাস্তি - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 30, 2026

'বন্দে মাতরম বিল ২০২৬' কী? জেনে নিন নতুন আইনের বিধান ও লঙ্ঘন করলে কত হতে পারে শাস্তি


রাজ্যসভায় 'জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬' পাস হয়েছে। এর ফলে 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-এর মতো আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথ আরও এগিয়েছে। এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য হল, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে 'বন্দে মাতরম'-এর অপমান করে, গান গাওয়ায় বাধা দেয় বা পরিবেশনের সময় বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজ্যসভায় কী বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়?

বিল নিয়ে আলোচনায় নিত্যানন্দ রায় বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি আইনি সংশোধনী নয়, বরং ভারতের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শ এবং দেশের আত্মার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তাঁর মতে, 'বন্দে মাতরম'-কে উপযুক্ত আইনি সুরক্ষা দেওয়া ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বর্তমানে আইনে কী রয়েছে?

বর্তমানে 'জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১' অনুযায়ী তিনটি জাতীয় প্রতীক আইনি সুরক্ষা পায়—
ভারতের জাতীয় পতাকা (তিরঙ্গা)
ভারতের সংবিধান
জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'

আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দেন বা অন্যদের গাইতে বাধা দেন, তাহলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।


সংশোধনী বিলে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?

নতুন সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হল, জাতীয় সঙ্গীতের মতো 'বন্দে মাতরম'-কেও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা। বিলটি আইন হলে নিম্নলিখিত কাজগুলো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—

ইচ্ছাকৃতভাবে 'বন্দে মাতরম'-এর অপমান করা।

কাউকে 'বন্দে মাতরম' গাইতে বাধা দেওয়া।

জাতীয় গান পরিবেশনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।

এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে।


বিলটি কি এখনই আইন?

না। রাজ্যসভায় বিলটি পাস হলেও এটি এখনও আইন হয়ে যায়নি। আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে সংবিধান অনুযায়ী বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংসদীয় অনুমোদন (যদি প্রযোজ্য হয়) এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরই এটি কার্যকর হবে।


কেন আনা হয়েছে এই সংশোধনী?

'বন্দে মাতরম' রচনা করেছিলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই গান দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের বৈঠকে তৎকালীন সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষণা করেছিলেন, 'জন গণ মন' ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হলেও 'বন্দে মাতরম'-কেও সমান মর্যাদা দেওয়া হবে, কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামে এর ঐতিহাসিক অবদান ছিল অনস্বীকার্য।


এতদিন আইনি সুরক্ষা ছিল না কেন?

গণপরিষদে সমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও 'জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১'-এ 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সঙ্গীতের মতো আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে সেই আইনি ঘাটতি দূর করা হচ্ছে।


সরকারের উদ্দেশ্য কী?

সরকারের মতে, এই সংশোধনীর লক্ষ্য হল জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়া, যাতে উভয় জাতীয় প্রতীকের সম্মান রক্ষায় একই ধরনের আইন কার্যকর থাকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad