আমেরিকায় ৯/১১-এর ধাঁচে হামলার হুমকি ইরানের, হরমুজ নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 23, 2026

আমেরিকায় ৯/১১-এর ধাঁচে হামলার হুমকি ইরানের, হরমুজ নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৩ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হুমকি-ধমকির পর্ব অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ, তেমন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলায় ইরানও বিচলিত। এরই মধ্যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গুরুতর হুমকি দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি শীঘ্রই হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা ৯/১১-এর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। এই হুমকি পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কাকে আরও গভীর করেছে।


এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দেন। এর কয়েক ঘন্টা পরেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি ভয়াবহ হুমকি দেয়। আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে ৯/১১-এর মতো হামলার হুমকি দিয়ে বলেছে যে, যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় শোকের পরিস্থিতি তৈরি হবে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবর অনুযায়ী, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, "যদি যুদ্ধ চলতে থাকে, আমরা এমন অপারেশন চালাব যাতে আমেরিকা অনুতপ্ত হবে... যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় শোকের পরিস্থিতি আসবে।"


উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেষবার জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল ৯/১১ হামলার পর। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই হামলাটি ছিল আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা। সন্ত্রাসীরা আমেরিকান যাত্রীবাহী চারটি বিমান ছিনতাই করেছিল। এই বিমানগুলোর মধ্যে দুটি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে ১১০ তলা ভবনগুলো তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে এবং চতুর্থটি পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এই হামলায় প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন।


এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজে কোনও জাহাজে হামলা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের যেকোনও সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালাবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "এখন থেকে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে কোনও জাহাজে হামলা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা ফেলবে। তেহরানের নিকটবর্তী অবকাঠামোগুলোকেও নিশানা করা হবে।"


মার্কিন আধিকারিকদের মতে, যেকোনও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শর্ত হল, ইরানকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক যান চলাচল করতে দিতে হবে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, ইরান গত তিন মাসে ৩০টিরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং জাহাজে হামলা অব্যাহত রেখেছে।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহ ধরে একটানা ইরানে বোমা হামলা চালাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২ দিন ধরে দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি সেতুকে নিশানা করেছে। ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকেও নিশানা করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত "পিকাক্স মাউন্টেন" পারমাণবিক স্থাপনাকে নিশানা করবে। ইরান কড়া জবাব দিয়ে বলেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন পদক্ষেপ করলে ইরান এটিকে এই অঞ্চলে সংঘাতের বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করবে। ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরণের হামলা চালাবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad