লাঠির জবাবে গোলাপ! নতুন 'গান্ধীগিরি' আন্দোলনের ঘোষণা প্রদেশ কংগ্রেসের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, August 5, 2026

লাঠির জবাবে গোলাপ! নতুন 'গান্ধীগিরি' আন্দোলনের ঘোষণা প্রদেশ কংগ্রেসের


 কলকাতায় মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ২১ জুলাইয়ের ঘটনাবলি এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখল প্রদেশ কংগ্রেস। দলের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমনে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে কংগ্রেস অহিংস পন্থায় আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে চায়।

শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই শহীদ মিনারমুখী কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া কংগ্রেস কর্মীদের একাধিক জেলায় বাধার মুখে পড়তে হয়। তাঁর অভিযোগ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদীয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় বাসে হামলা, ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। দলের দাবি, এই ঘটনায় বহু কর্মী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

ওই কর্মসূচির দিন এক কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, সরকারি নথিতে মৃত্যুর কারণ হৃদ্‌রোগজনিত বলে উল্লেখ থাকায় দল সরাসরি হামলার সঙ্গে সেই মৃত্যুকে যুক্ত করছে না। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আতঙ্কের পরিবেশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ছাত্র আন্দোলনের সময় কয়েকজন সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেস। শুভঙ্কর সরকারের দাবি, সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, আহত সাংবাদিকদের খোঁজ নিতে দলের প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

আগামী দিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে কংগ্রেসের নতুন কৌশলও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইন অমান্য কর্মসূচিতে এবার সংঘর্ষের পথে না গিয়ে সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। পুলিশের বাধা বা লাঠিচার্জের মুখেও আন্দোলনকারীরা গোলাপ ফুল ও চকলেট তুলে দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাবেন। কর্মসংস্থান, সাংবিধানিক অধিকার, আইনের শাসন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দাবিকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী মতকে দমনের প্রবণতা বাড়ছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে শুভঙ্কর সরকার বলেন, এ বিষয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবে।

এছাড়া কলকাতা থেকে ইএসআই-এর গুরুত্বপূর্ণ দফতর বা ইউনিট সরানোর সম্ভাবনার বিরোধিতা করে কংগ্রেস। দলের দাবি, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের স্বার্থবিরোধী হতে পারে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আনা হয়েছে এবং রাজ্য সরকারেরও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে আদিত্য সিংয়ের গ্রেফতার, তুলু মণ্ডল-সংক্রান্ত বিতর্ক, জঙ্গি গ্রেফতার ইস্যু এবং ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে শুভঙ্কর সরকারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এআইসিসির নবনিযুক্ত সদস্য অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, মিডিয়া কমিটির কনভেনর রোহন মিত্র এবং সম্পাদক সোমন রায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad