হলদওয়ানিতে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা। BNS-এর দুই ধারা এবং SC/ST আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে দলিত সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানিতে দায়ের হওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে FIR করেছে।
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৯৬ ও ২৯৯ ধারা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর ৩(১) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগটি করেছেন তফসিলি জাতিভুক্ত বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য অমিত কুমার। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে তাঁর সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর হলদওয়ানির রামলীলা ময়দানে একটি যজ্ঞ করে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী হলদওয়ানির রামলীলা ময়দানে হওয়া ওই ধর্মীয় আচারকে জাতপাতের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং ঘটনাটিকে ছুঁয়াছুঁয়ি বা অস্পৃশ্যতার সঙ্গে তুলনা করেন।
অমিত কুমারের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে তাঁকে ও তাঁর সম্প্রদায়কে দলিত-বিরোধী, জাতিবাদী এবং অস্পৃশ্যতার পক্ষপাতী হিসেবে তুলে ধরে অপমান করেছেন। এর ফলে তাঁর এবং তাঁর সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
কী বলেছিলেন রাহুল গান্ধী?
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে হলদওয়ানির ঘটনাটি নিয়ে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কংগ্রেস সভাপতির সভার পর রামলীলা ময়দানের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা অস্পৃশ্যতার মতো আচরণ। তিনি এই শুদ্ধিকরণ যজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে FIR করার দাবি জানান।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপি ও RSS-এর বিরুদ্ধেও অস্পৃশ্যতার অভিযোগ তোলা হয়। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও শুদ্ধিকরণকারীদের বিরুদ্ধে SC/ST আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে কংগ্রেস যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের অপমানের সঙ্গে যুক্ত করছে, অভিযোগকারী পক্ষ ও বিজেপির বক্তব্য, এটি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সভাস্থল পরিষ্কার করার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়।
চিরাগ পাসওয়ানের বক্তব্য
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানও রামলীলা ময়দানে শুদ্ধিকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, যারা দলিতদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তারা যদি মনে করেন স্বাধীনতার পরও দীর্ঘদিন ধরে সমাজে দলিতদের সঙ্গে বৈষম্য রয়েছে, তাহলে এর দায়ও তাঁদের নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংরক্ষণের ভিত্তি ছিল সামাজিক বৈষম্য। তাই বর্তমানে সেটিকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সংবিধানের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

No comments:
Post a Comment