'বাঁকিপুর রাতারাতি বেঙ্গালুরু হয়ে যাবে না', কেন বললেন প্রশান্ত কিশোর? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, August 3, 2026

'বাঁকিপুর রাতারাতি বেঙ্গালুরু হয়ে যাবে না', কেন বললেন প্রশান্ত কিশোর?


ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ আগস্ট ২০২৬: বিহারের রাজধানী পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনী কৌশলী তথা জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীনের শক্ত ঘাঁটি থেকে বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। এদিকে, নির্বাচনী জয়ের আগে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। সোমবার বিপুল জয়ের আগে প্রশান্ত কিশোর বলেন যে, বাঁকিপুর রাতারাতি বেঙ্গালুরু হয়ে যাবে না। তবে তিনি আরও বলেন যে, তাঁর এই জয় এই আসনে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে। 


নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ৩২ দফার গণনা শেষে প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৬৪,১৫১ ভোট আর বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪,৮২৭ ভোট। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর প্রার্থী রেখা কুমারী ১৪,২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।


ভোট গণনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, "আমার বিধায়ক হওয়াটা বাঁকিপুরকে বেঙ্গালুরু বানিয়ে দেবে না, কিন্তু আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে আপনারা এখানে কিছু উন্নতি দেখতে পাবেন।" পিকে জানান যে, জেতার পর বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেয়ে বাঁকিপুরের উন্নতি করাই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, "জনগণের আশীর্বাদে বাঁকিপুরের উন্নতি করাই হবে আমার প্রথম কাজ। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে আপনারা পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আমি বড় কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না।"


এই উপলক্ষে তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকেও নিশানা করেন। তিনি বলেন, তাঁর লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় বরং রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। পিকে বলেন, "এই লড়াই ব্যক্তিগত নয়। সম্রাট চৌধুরীর আচরণ, চরিত্র এবং চেহারা সবার সামনে রয়েছে। যদি একজন অপরাধীকে বিহারের রাজা বা মুখ্যমন্ত্রী বানানো হয়, তাহলে বিহারের উন্নতি হতে পারে না।" তিনি আবেদন করেছেন যে, যেহেতু বিহারে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই জোট যেন একজন যোগ্য নেতাকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী করে। 


তিনি বলেন, "আমাদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বিজেপি এবং এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তাই মুখ্যমন্ত্রী তাদের দল থেকেই হবেন। আমরা শুধু মোদী জিকে অনুরোধ করছি, একজন যোগ্য ও সচ্চরিত্র ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিন, যাতে বিহারের উন্নতি হয় এবং মানুষ বিহারী হিসেবে গর্ববোধ করতে পারে।"


এদিকে, প্রশান্ত কিশোরের দলের বাইরের বেশ কয়েকজন নেতাও তাঁর বিজয়কে 'বিজেপির ঔদ্ধত্যের জন্য একটি শিক্ষা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন জনশক্তি জনতা দলের সভাপতি এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সিপিআই(এমএল) লিবারেশন বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের একটি মিত্র দল। ৩০শে জুলাইয়ের ভোটের আগে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রশান্ত কিশোর এবং বিজেপি জোরেশোরে প্রচার চালিয়েছিল। প্রচার চলাকালীন, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তোলে এবং এমনকি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থও হয়।


১৯৭০-এর দশকের জেপি আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ও প্রবীণ সমাজতান্ত্রিক নেতা শিবানন্দ তিওয়ারি বলেন, "সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনগুলিতে বিজেপির প্রতি ব্যাপক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে বাঁকিপুরের এই রায়কে দেখা উচিৎ। একই সাথে, প্রশান্ত কিশোরকেও কৃতিত্ব দেওয়া উচিৎ, যিনি অসাধারণ কর্মশক্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।" আরজেডি মুখপাত্র চিত্তরঞ্জন গগনও এই ফলাফলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। 


আরজেডি প্রায়শই প্রশান্ত কিশোরকে বিজেপির "বি টিম" বলে উল্লেখ করে থাকে। গগন বলেন, "কে জিতেছে তার চেয়ে আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল বিজেপি তাদের শক্ত ঘাঁটিতে পরাজিত হয়েছে।" নীতিন নবীন গত বছর নভেম্বর ২০২৫-এ টানা পঞ্চমবারের মতো বাঁকিপুর বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে, এপ্রিলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad