লাইফস্টাইল ডেস্ক, ০১ আগস্ট ২০২৬: শ্রাবণ মাস শুরু হয়েছে। শ্রাবণের সোমবারে বহু ভক্ত উপবাসের মাধ্যমে ভগবান শিবের আরাধনা করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তি সহকারে এবং নির্ধারিত আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করে শ্রাবণের সোমবারের উপবাস পালন করলে সুখ, সমৃদ্ধি এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। তবে, এই উপবাস পালনের মধ্যে কেবল আরাধনাই নয় বরং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনে কিছু নিয়মও মেনে চলতে হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শ্রাবণের সোমবারের উপবাসের সময় কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিৎ এবং কোন খাবারগুলি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
উপবাসের সময় এই জিনিসগুলি এড়িয়ে চলুন
গম, চাল এবং সাধারণ শস্য
শ্রাবণের সোমবারের ব্রতর সময় গম, চাল এবং অন্যান্য সাধারণ শস্য ভুলেও খাবেন না। কট্টু আটা, পানিফলের আটা, অমরান্থ বা সাগু দিয়ে তৈরি খাবার ফলাহার হিসাবে খাওয়া যেতে পারে। তবে, উপবাসের নিয়ম অঞ্চল এবং পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই আপনার পরিবারের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রাখুন।
অতিরিক্ত ভাজা এবং প্যাকেটজাত খাবার
উপবাসের নামে ভাজা খাবার বা প্যাকেটজাত "উপবাসের জলখাবার" খাওয়া ভালো বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হয় না। এগুলিতে প্রায়শই অতিরিক্ত তেল এবং প্রিজারভেটিভ থাকে। তাই, তাজা, বাড়িতে রান্না করা ফলাহার করুন।
তামাক, গুটখা এবং ধূমপান
উপবাসের উদ্দেশ্য শুধু খাবার থেকে বিরত থাকাই নয় বরং মন ও শরীরকে শুদ্ধ করাও। তাই, সিগারেট, বিড়ি, গুটখা, তামাক বা অ্যালকোহলের মতো জিনিস থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকুন।
বাইরের খাবার
বিশ্বাস অনুসারে, উপবাসের সময় সাত্ত্বিক এবং তাজা খাবার খাওয়া শ্রেয় বলে মনে করা হয়। তাই, বাজারজাত মিষ্টি, তৈরি খাবার বা বাইরের খাবারের পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা খাবার খান।
সাধারণ লবণ
শ্রাবণ সোমবারের উপবাসের সময় বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করেন। যদি কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে, তবে উপবাসের নিয়ম অনুযায়ী সৈন্ধব লবণ ব্যবহার করুন।
শ্রাবণ সোমবারের উপবাসের সময় আপনি কী খেতে পারেন?
ফল ও সাত্ত্বিক খাবার
উপবাসের সময় মৌসুমি ফল, দুধ, দই, মাখানা, সাগু, বাকহুইট এবং পানিফলের আটার তৈরি খাবার খাওয়া যেতে পারে। এই খাবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং এগুলোকে ফলের খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফল ও শুকনো ফল
আপেল, পেঁপে, ডালিম, কলা, সাপটা-র মতো ফল এবং বাদাম, কাজু, কিশমিশ, আখরোট ও পেস্তার মতো শুকনো ফল শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এগুলো সীমিত পরিমাণে খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ
উপবাসের সময় অনেকেই কম জল পান করেন, যার ফলে ডিহাইড্রেশন এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এই সময় শরীরকে সতেজ রাখতে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল, ডাবের জল বা চিনি ছাড়া লেবুর শরবত পান করুন।
উপবাসের সময় এই বিষয়গুলো মনে রাখবেন:
অতিরিক্ত খাবেন না। ডায়াবেটিস, নিম্ন রক্তচাপ, কিডনি রোগ বা অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া উপবাস রাখা উচিৎ নয়। গর্ভবতী মহিলা, স্তন্যদায়ী মা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিজেদের স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে উপবাসের পদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিৎ।

No comments:
Post a Comment