গঙ্গার রুদ্র রূপ! ভাসল ভুতনি দ্বীপের একাধিক গ্ৰাম, জলবন্দি লক্ষ লক্ষ মানুষ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, September 6, 2026

গঙ্গার রুদ্র রূপ! ভাসল ভুতনি দ্বীপের একাধিক গ্ৰাম, জলবন্দি লক্ষ লক্ষ মানুষ


মালদা: গঙ্গার রুদ্র রূপ। বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মালদায়। ডুবছে ঘরবাড়ি। জানা যাচ্ছে, ভুতনি দ্বীপের বেশ কয়েকটা গ্রাম ইতিমধ্যে জলের তলায় চলে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে আটটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তৎপর রয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই মালদহ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ক্ষয়ক্ষতি এবং বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। 


জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মানিকচক ও রতুয়া এলাকায় ভাঙন রোধে এবং ত্রাণ বণ্টনে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, শনিবার পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে কেশরপুর কলোনি এলাকায় যান রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু, বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল ও জেলা পুলিশ সুপার। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন তাঁরা। মালদহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানান, ১৯টি গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ নতুন করে জলবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।


ইতিমধ্যেই বহু ঘরবাড়ি ও চাষের জমি জলের নিচে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেচ দপ্তর, পুলিশ ও প্রশাসন মিলে বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছেন। এবারের বন্যা ও ভাঙনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 


এদিন পরিদর্শন শেষে সেচ প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্গতদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। জলমগ্ন গ্রামগুলিতে নৌকা ও মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সবরকমভাবে কাজ করছে।


মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জল চরম বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। ইতিমধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কমিউনিটি কিচেন খুলে তৈরি খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিলির কাজ চলছে। সেচ দফতর সেখানে বালি ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভূতনির কেশরপুর কালুটোনটোলা এলাকার নদী বাঁধ ও রিং বাঁধের একাংশ জলের তোড়ে ভেঙে যায়। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে হু হু করে গঙ্গার জল ভূতনির সংরক্ষিত ও লোকালয় এলাকায় ঢুকতে শুরু করে। বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি এবং চাষের জমি তলিয়ে যায়। 


শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, গঙ্গা ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এক থেকে দুই বছরের মধ্যে স্থায়ী সমাধান হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বন্যা রোধ ও গঙ্গা ভাঙন রোধে এনডিএম (ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) এবং রাজ্য তহবিলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও অতিরিক্ত তহবিলের আবেদন জানানো হয়েছে।


মালদার পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিকচক ও রতুয়ায় নদীভাঙনকে একটি বার্ষিক সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেন, যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি বলেন, “দুটি পৃথক ঘটনা রয়েছে। একটি হল মালদার মানিকচক ও রতুয়া এলাকার ভাঙন, যা প্রতি বছরই ঘটে থাকে। এই ভাঙন একটি বড় সমস্যা, যার স্থায়ী সমাধান আমরা চাইছি।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad