কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম দুর্গা পূজা। আর এবারেই কলকাতার ১০৮ বছরের প্রাচীন বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। সেই জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টেও। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত রবিবার সাধারণ সম্পাদক এবং চারজন সদস্য নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। উল্লেখ্য, আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে হয় ভোটাভুটি। মোট ভোটার ৭৭ জন। তার মধ্যে ৬৬ জন ভোট দিয়েছেন। বাকিরা ভোট দেননি। সাধারণ সম্পাদকের হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ৩৩টি করে ভোট পেয়েছেন। তার ফলে নিষ্পত্তি হয়নি কিছুই। প্রার্থী গৌতম নিয়োগী হাই কোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষককে পক্ষপাতদুষ্ট বলেই অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, এই ভোটের দিন অশান্তির অভিযোগও করেন এক মহিলা। এই টানাপোড়েনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯১৯ সালে প্রথম এই পুজো শুরু হয়। সেই সময় ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা নামে পরিচিত ছিল পুজোটি। তারপর পশুপতি বোস লেন এবং বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পুজো হয়। পরে যদিও স্থায়ীভাবে বাগবাজারে পুজো শুরু হয়। সমাজকর্মী নগেন্দ্রনাথ ঘোষালের সাহায্য কমিটি তৈরি হয়।
বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব নামে কমিটি তৈরি হয়। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি হন। সেইবারই পুজোয় স্বদেশি জিনিসপত্র প্রদর্শনী হয়। ১৯৩৮-৩৯ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও এই পুজো কমিটির সভাপতি ছিলেন। বিপ্লবী চিত্তরঞ্জন দাস স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করেন।
তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার আর এই আমলে নেতা-মন্ত্রীরা এই পুজোর সঙ্গে ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। শশী পাঁজা এবং অতীন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর পুজো কমিটিতে কারা থাকবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। প্রতি বছর বাগবাজার সার্বজনীনের পুজোয় নজর থাকে প্রায় সকলের। আর সেই বিখ্যাত পুজোয় জটিলতার ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। বল অবশ্যই এখন হাইকোর্টের কোটে।

No comments:
Post a Comment