নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: আমবাগানে উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর দেওরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বৌদি। ঘটনা জানাজানি হতেই অশান্তি চরমে ওঠে। এদিকে দু'জনের কেউই কাউকে ছাড়তে নারাজ। এসব অশান্তির মাঝেই বৃহস্পতিবার সকালে দু'জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরের বাবলা গ্রামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। যুগলের এমন মৃত্যুর নেপথ্যে শুধুই প্রেম নাকি লুকিয়ে আছে কোনও অন্য রহস্য, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম দীপক সরদার, বয়স ২০ বছর এবং সুমিতা সরদার, বয়স ১৯ বছর। দু'জনেই নদিয়ার শান্তিপুরের বাবলা গ্রামের বাসিন্দা। দীপকের মামাতো দাদার স্ত্রী ছিলেন সুমিতা। স্বাভাবিকভাবেই দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াত লেগেই থাকত। সেই সূত্রেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দীপক ও সুমিতা। সুমিতার স্বামী কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। সেই সুযোগেই মামাতো দেওরের সঙ্গে সুমিতা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হতেই দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি চরমে ওঠে। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই দীপক-সুমিতা একে অপরকে ছাড়তে নারাজ। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার এই ঘটনা। এদিন সকাল ৭টা নাগাদ স্থানীয় এক ব্যক্তি মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে দু'জনকে একসঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। খবর চাউর হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। দেহ দুটি উদ্ধার করে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। স্থানীয়দের দাবী, প্রেম স্বীকৃতি পাবে না বুঝেই একসঙ্গে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুগল। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, মৃত্যুর আগে দু'জনের মধ্যে কিছু ঘটেছিল কিনা বা এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

No comments:
Post a Comment