'জোড়াফুল' তুমি কার? লক্ষ্মীবারেই মিটতে পারে প্রতীক বিবাদ, তৃণমূলের দুই শিবিরকেই তলব কমিশনের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, September 16, 2026

'জোড়াফুল' তুমি কার? লক্ষ্মীবারেই মিটতে পারে প্রতীক বিবাদ, তৃণমূলের দুই শিবিরকেই তলব কমিশনের


কলকাতা: 'জোড়াফুল' তুমি কার? প্রতীক নিয়ে এই জটিল প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর সম্ভবত নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগেই মিলতে চলেছে। বলা ভালো লক্ষ্মীবারেই মিলতে পারে এই উত্তর। প্রতীক যুদ্ধে সামিল দুই যুযুধান শিবির অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নতুন' তৃণমূলকে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই সম্ভবত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে সেটা বৃহস্পতিবারই হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।


এদিন বেলা ৩টের সময় ঋতব্রত শিবির এবং বিকেল ৪টের সময় মমতা তৃণমূলের প্রতিনিধিদের তলব করা হয়েছে। দুই শিবিরের কাছ থেকেই কিছু নথি এবং তাঁদের চূড়ান্ত যুক্তি শুনতে চায় কমিশন। সূত্রের খবর 'নতুন' তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি হিসাবে কমিশনে যাবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী আমন ঝাঁ। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে থাকবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। 


উল্লেখ্য, আজ, বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষের তরফে যাবতীয় নথি জমা পড়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। তারপরেই হয়ত এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে। 


এর আগে শনিবার মমতা ও ঋতব্রত তৃণমূলের বক্তব্য শুনেছে কমিশন। কিন্তু এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেদিন দুই শিবিরের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকের পর ঋতব্রত শিবিরকে নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু নথি জমা দিতে বলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। সেই নথির ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ফের তাঁদের তলব করা হয়েছে।


নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে মমতা ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। দু-পক্ষই জানিয়েছে তারা জোড়াফুল প্রতীকেই লড়বে। আজই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে তৃণমূলের দুই শিবির জোড়াফুল প্রতীকে লড়াইয়ের দাবী করলেও এখনও নির্বাচন কমিশনে প্রতীক নিয়ে দু-পক্ষের লড়াইয়েরই নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে প্রার্থী দিলেও তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক আদৌ উপনির্বাচনে থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


আরও বড় প্রশ্ন হল, কমিশন কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই মুহূর্তে চার রকম সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, প্রতীক এবং দলের নাম দেওয়া হল মমতা তৃণমূলকে। সেক্ষেত্রে উপনির্বাচন এবং আগামী দিনের নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে লড়বেন মমতার প্রার্থীরা। দ্বিতীয়ত, ঋত শিবিরকে প্রতীক দেওয়া হলে মমতা তৃণমূলকে অন্য প্রতীক খুঁজে উপনির্বাচনে লড়তে হবে। সূত্রের দাবী, মমতা-তৃণমূল ইতিমধ্যেই বিকল্প প্রতীক হিসাবে অন্য একটি ফুলের কথা ভেবে রেখেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই যে শিবির প্রতীক পাবে না, তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে। অর্থাৎ প্রতীকের ভবিষ্যৎ সেই ঝুলেই থাকছে। 


তৃতীয় বিকল্প হচ্ছে, কমিশন এখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে 'স্টেটাস কো' অর্থাৎ 'স্থিতাবস্থা' বজায় রাখার নির্দেশ দিতে পারে। এক্ষেত্রে দুই শিবিরকে আরও নথি জমা দিতে বলা হতে পারে। এতে করে লাভ মমতা শিবিরের, তাঁরাই জোড়াফুল প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে পারবে।


আর চতুর্থ সম্ভাবনা হল, অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূলের 'জোড়াফুল' প্রতীকটিই ফ্রিজ করে দেওয়া। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই প্রতীক পাবে না। দুই শিবিরকেই আলাদা দল গড়ে বা 'নির্দল' হিসাবে লড়বে। দু'তরফের শুনানি চলবে। দীর্ঘ শুনানির পর একেবারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কমিশন সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে প্রবল। এখন এই প্রতীক যুদ্ধের অবসান কী লক্ষ্মীবারেই হচ্ছে? নাকি তৃণমূলের দুই শিবিরের ভাগ্যে রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা? সেদিকেই নজর থাকবে প্রায় সকলের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad