বিনোদন ডেস্ক, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: শাস্ত্র বলে, যে কোনও শুভ কাজের শুরুতেই আগে তাঁর নাম নিতে হয়। কারণ তিনি বিঘ্নহর্তা, ভক্তের সব বিপদ এক নিমেষে দূর করে দেন। তিনি হলেন পার্বতী নন্দন ভগবান শ্রী গণেশ। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের এই বিশেষ তিথিতে প্রতিবারের মতো এবারেও দেশজুড়ে পালিত হতে চলেছে বাপ্পার পুজো।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাদ্র শুক্ল চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ৭টা বেজে ৬ মিনিটে। এই তিথি থাকবে পরের দিন অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা বেজে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্র বলছে, দেবশিল্পী পার্বতীনন্দনের জন্ম হয়েছিল ঠিক দুপুরবেলায়। তাই সূর্যোদয়ের তিথি নয় বরং তাঁর জন্মতিথির সময় মেনেই ১৪ সেপ্টেম্বর মূল পুজো পালিত হবে।
পুজোর নিয়ম-
পুজোর জায়গাটি আগে ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। সেখানে একটি পরিষ্কার লাল কাপড় পাতুন। সেই কাপড়ের ওপর গণেশের মূর্তি স্থাপন করতে হবে। পুজো শুরুর পর গণেশকে প্রথমে সিঁদুরের তিলক পরাবেন। তারপর নিবেদন করুন চাল ও টাটকা ফুল। সবচেয়ে জরুরি হল দূর্বা। দূর্বা গণেশের বড্ড প্রিয়। কয়েকটি দূর্বা এক সঙ্গে নিয়ে সুতো দিয়ে বেঁধে ছোট ছোট আঁটি বানিয়ে তাঁর পায়ে দিন। মন্ত্রপাঠ আর ভক্তিভরে আরতির পর দিন ভোগ। সিদ্ধিদাতার পুজোয় মোদক ছাড়া তো ভোগ সম্পূর্ণই হয় না। তাই তাঁকে অবশ্যই মোদকের ভোগ নিবেদন করতে হবে।
এই পুজো ঘিরে রয়েছে আরও বেশ কিছু কড়া নিয়মও। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এদিন রাতের আকাশে ভুলেও চোখ তোলা মানা। এদিন অসাবধানে চাঁদের দিকে তাকালেই নাকি নেমে আসতে পারে ঘোর বিপদ! সমাজের চোখে জুটতে পারে মিথ্যা অপবাদ ও চরম অসম্মান। শাস্ত্র মতে, ভাদ্রপদের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে (যেদিন গণেশ পূজা শুরু হয়) চাঁদের দিকে তাকালে মানুষের ওপর 'কলঙ্ক চৌথ' বা মিথ্যা অপবাদের দোষ লাগে। এমনকি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণও এই নিয়ম ভাঙার ফলে 'স্যমন্তক মণি' চুরির মিথ্যা অপবাদের শিকার হয়েছিলেন বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। আর ভুলবশত যদি কেউ এই দিন চাঁদ দেখে ফেলেন, তবে সেই দোষ কাটানোর জন্য নির্দিষ্ট মন্ত্র জপ করার বা 'স্যমন্তক মণির' গল্প শোনার নিয়ম রয়েছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, চাঁদের রূপের খুব অহংকার ছিল। একবার গণেশের ভুড়ি আর ভারী শরীর দেখে তিনি ঠাট্টা করে হেসে ওঠেন। তাতেই প্রচণ্ড রেগে যান গণেশ। রেগে গিয়ে তিনি চাঁদকে অভিশাপ দেন, তাঁর রূপ হারিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বলেন, গণেশ চতুর্থীর রাতে যে মানুষ চাঁদের দিকে তাকাবে, তাকে বিনা দোষে সমাজে মিথ্যা অপবাদ সইতে হবে।
চন্দ্রদেব অবশ্য পরে ক্ষমা চান। তখন গণেশ অভিশাপ কিছুটা নরম করে বলেন, চাঁদের ঔজ্জ্বল্য একেবারে মুছে যাবে না, মাসে ১৫ দিন সে ছোট হবে আর ১৫ দিন স্বমহিমায় আলো দেবে। তবে সেই থেকে নিয়ম হয়ে গিয়েছে, চতুর্থীর রাতে চন্দ্রদর্শন একেবারে নিষিদ্ধ। অতএব এই দিন পুজো করুন ভক্তিভরে, কিন্তু ভুলেও রাতের আকাশে চোখ রাখবেন না, শাস্ত্রবিদরা কিন্তু এমনটাই জানাচ্ছেন।
বি.দ্র: এখানে দেওয়া তথ্য সাধারণ বিশ্বাস ও মান্যতার ওপর ভিত্তি করে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিতে।

No comments:
Post a Comment