ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: চলন্ত বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনের গ্ৰাসে গোটা বাস। এতে ৯ জনের পুড়ে মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায়। বুধবার রাতে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি স্লিপার বাসে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে, যা জেওয়ার থানা এলাকার অন্তর্গত।
যুগ্ম সিপি রাজীব নারায়ণ মিশ্র জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে লোকজন বাস থেকে ঝাঁপ দিয়ে নামতে শুরু করেন। এই দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায়।
অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাসটি আগুনের গ্ৰাসে চলে যায়। আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। অনেক চেষ্টার পর দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু বাসটি যাতে পুরোপুরি ঠাণ্ডা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য শীতলীকরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘক্ষণ ধরে চলানো হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও কিছু লোক বাসের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দমকল বাহিনীর দল জানিয়েছে যে, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই ভেতরে আটকা পড়া ব্যক্তিদের অবস্থা কী, তা স্পষ্ট হবে। এই দুর্ঘটনায় কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেটাও জানা যাবে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গ্রেটার নয়ডার বাস দুর্ঘটনার বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তাঁদের সব ধরণের সম্ভাব্য সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও করেছেন। নিহতদের পরিবারের জন্য প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।
বেসরকারি এই বাসটি দিল্লী থেকে মাহোবার দিকে যাচ্ছিল। এই বাসটি মূলত উত্তর প্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে চলাচল করে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও অজানা। অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আপডেটের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে আগুন লেগে যাওয়া বাসটির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এ যাত্রী সুনীল কুমার চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আগুন লাগার আগে চালকের কেবিন থেকে পোড়া গন্ধ আসছিল এবং যাত্রীরা চালক ও কন্ডাক্টরকে এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন।
অভিযোগ, চালক বিষয়টি উপেক্ষা করেন এবং বাসটি থামাননি। পরে চালকের আসনের কাছ থেকে আগুনের শিখা বের হতে শুরু করে। অভিযোগকারীদের মতে, বেশ কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে বেরিয়ে গেলেও, কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়েন। এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয়জনের মৃত্যু হয়।


No comments:
Post a Comment