নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: করম পুজো অনুষ্ঠিত হল শহর লাগোয়া শিকারপুরের ঢোপেরহাটে। বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে থাকা বন্য প্রাণীর ভয় সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে উৎসবে যোগ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকদের।
আদিবাসী সমাজের অন্যতম পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পদাধিকারী ও সদস্য-সদস্যারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উরাও ক্ষত্রিয় সমাজ সমিতি ও বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের পরিচালনায় আয়োজিত এই পুজোয় বড়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই প্রাচীন পুজোয় শামিল হল এলাকার খুদেরাও।
করম পুজোয় সামিল ভক্ত সুন্দরী ওঁরাও বলেন, ‘ভাদ্রের শুক্ল একাদশীতে এই পুজো হয় সব মিলিয়ে তিনদিন ধরে। করমের তিন ডালে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের পুজো হয়। ভালো ফলনের জন্য প্রার্থনা করা হয়। সমাজের মঙ্গল কামনাও করি।” খুদে ভক্ত ঋত্বিকা তির্কি বলেন, ‘জল ভরা, পুজোর স্থানের সাজসজ্জা, জল ভরতে যাওয়া-সহ নানা কাজ করি আনন্দে। উপোসও করে থাকি।'
এদিন সন্ধ্যায় বিশেষ অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ, তরুণদল বসতির প্রমূখ অজয় সাহা, বর্ষীয়ান সদস্য চন্দন রায়-সহ অন্য সদস্য সদস্যারা শহর থেকে শিকারেপুরে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে জলপাইগুড়ি নগর সভাপতি ললিত সিংহি-সহ অন্যরাও ছিলেন এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে।
ললিত সিংহি বলেন, “করম পুজো উপলক্ষ্যে সমগ্র সনাতনী আদিবাসী সমাজকে শুভেচ্ছা। ওরাও মানব কল্যাণেই পুজো করছে আমরা এই পুজোয় সামিল হলাম।’ চন্দন রায় বলেন, “এটি বনবাসী সমাজের মূলত শিবপুজো। করম গাছের নীচেই কঠোর আরাধনা করে শিবকে পতিরূপে লাভ করেন মা পার্বতী। ওঁরা যাতে ওদের পরম্পরা, সংস্কৃতিকে বজায় রাখতে পারে, সেজন্যই ওদের উৎসাহ দিতে আমরা এসেছি।”

No comments:
Post a Comment