কলকাতা: সমুদ্র স্নানের আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল বিষাদে। মন্দারমণিতে স্নানে নেমে তলিয়ে গেল তিনজন। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে দু'জন শান্তিপুরের বাসিন্দা। ইতিমধ্যেই এক নাবালকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ দম্পতি। মৃত ওই নাবালকের নাম সোমনাথ হালদার, বয়স ১০ বছর। সোমবার দুপুরে তিন জন যখন স্নান করতে নেমেছিলেন সমুদ্রে, সেই সময়ে জোয়ারের টানে হঠাৎ তাঁরা তলিয়ে যান। স্থানীয়দের তৎপরতায় নাবালককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে বাকি দু'জনের খোঁজে সন্ধান চালাচ্ছেন নুলিয়ারা। রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে মন্দারমণির একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন শান্তিপুরের বাসিন্দা সুমন শীল (২৪), বৃষ্টি শীল (১৮) এবং তাঁদের পরিচিত নাবালক সোমনাথ হালদার (১০)। দীঘা থেকে টোটো করে মন্দারমণিতে বেড়াতে এসে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তিনজনেই তলিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ, মন্দারমণি কোস্টাল থানার অন্তর্গত কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সকলেই স্নানে নেমেছিলেন। কিন্তু আচমকাই উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে যান। নাবালককে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সোমনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনায় চাঞ্চল্য সমুদ্রতীরেও। পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোমনাথের মা-বাবা কর্মসূত্রে দীঘায় থাকেন। নদিয়ার শান্তিপুর থেকে আত্মীয়রা দীঘায় বেড়াতে এসেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁরা মন্দারমণিতে সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আচমকা উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তিনজন তলিয়ে যান। নিখোঁজ সুমন ও বৃষ্টি শান্তিপুরের বাগদেবী গ্রামের বাসিন্দা। দাদার বাড়িতে তাঁরা বেড়াতে এসেছিলেন। দাদার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন সমুদ্রস্নানে। সেখানেই মারাত্মক কাণ্ড ঘটে যায়। ১০ বছরের বালকের দেহ উদ্ধার হলেও দম্পতির খোঁজে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোস্টাল পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ সপ্তাহে মন্দারমণির সমুদ্রে স্নানে নেমে দুই পর্যটকের তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবারও তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল মন্দারমণিতে। শোকে মূহ্যমান পরিবার।

No comments:
Post a Comment