উপনির্বাচনে সমর্থন চেয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বকে ফোন মমতার! চিঁড়ে ভিজল কী? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, September 15, 2026

উপনির্বাচনে সমর্থন চেয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বকে ফোন মমতার! চিঁড়ে ভিজল কী?


কলকাতা: রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। বাম-কংগ্ৰেস সহ তৃণমূলের দুই শিবির‌‌‌ ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এরই মাঝে উপনির্বাচনে জোট চেয়ে কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্বকে প্রস্তাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রাম আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। পাশাপাশি রেজিনগর কেন্দ্রে মমতা-তৃণমূলের প্রার্থীকে সমর্থনের জন্য কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মমতা। কিন্তু এতে কী চিঁড়ে ভিজল?


যতদূর জানা গিয়েছে, মমতার প্রস্তাবকে নাকচ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। আগেও মমতার জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া, রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গেই মমতার প্রস্তাব খারিজ হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, জোট চাইলে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন করুক কালীঘাট তৃণমূল। আগামী দিনে তাহলে জোটের রাস্তা আরও খোলা থাকবে।


আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। কংগ্রেসের তরফে দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। মমতা-তৃণমূলও দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও সোমবার দুই কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলের প্রতীক নিয়ে দড়ি টানাটানির মাঝে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে জোড় লড়াই হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ঋত-তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী এতেসামুল হক, রেজিনগরে প্রার্থী হচ্ছেন সফিউজ্জমান শেখ। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে ও রবিউল আলম চৌধুরী।


নন্দীগ্রামের কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-কে নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে খবর। ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। সেই নিয়ে মমতা-তৃণমূলের স্থানীয় স্তরে প্রার্থীর ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকাশ্যে এখনও প্রার্থীকে নিয়ে ক্ষোভ দেখা যায়নি। তাহলে কি প্রার্থী বাছাইয়ে 'ব্যাকফুটে' ও অন্য কাউকে প্রার্থী না পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের দ্বারস্থ হলেন? উঠেছে সেই প্রশ্নও। 


উল্লেখ্য, রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম থেকে এবার লড়ছেন মিলন প্রধান। সোমবারেই রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মনোময়নপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।


কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবী, ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় সরকার থেকে বামেদের হটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিলেন। জোটের সুবিধা পেয়ে ভোটে জেতার পর তৃণমূল সরকার গড়ে। ২০১২ সালেই রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন মমতা। এরপর তৃণমূলের আমলে কংগ্রেসের ওপর আক্রমণের অভিযোগ। কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, খুনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল সুপ্রিমোর এবারের প্রস্তাব জানার পরেই কংগ্রেসের নিচুতলার নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। বাংলার কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের দাবীকে সম্মান জানিয়েই মমতার প্রস্তাব ফেরানো হয়েছে বলে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছেন।


প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। জোড়াফুল শিবির এখন দুই ভাগে বিভক্ত; মমতা-তৃণমূল ও ঋতব্রত-তৃণমূল। তৃণমূলের-র নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ঝুলে আছে। জানা গেছে যে, নির্বাচন কমিশন ১৭ই সেপ্টেম্বরের আগেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নাম-প্রতীক এখন কার ঝুলিতে যায়, সেদিকেই আপাতত নজর বঙ্গবাসীর।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad