ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে পাকিস্তানের আজব কাণ্ড। এডিটেড ছবি শেয়ার করে বিতর্কের সৃষ্টি, পরবর্তীতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নিজেই। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দপ্তর এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের একটি এডিটেড গ্ৰুপ ফোটো শেয়ার করে দেন। এই ছবিটি থেকে বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যাতে শাহবাজ শরিফকে ফ্রেমের ঠিক মাঝখানে রাখা যায়। এই ছবিটি পোস্টের পরেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিতর্কটি আরও জোরালো হয় যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে তোলা আসল এবং সম্পূর্ণ ছবিটি পোস্ট করা হয়।
আর এদিকে নিজের অদ্ভুত কীর্তির জন্য সমাজমাধ্যমে ট্রোলের মুখে পড়তে হয় পাকিস্তানকে। সেইসঙ্গে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়। অনেকেই এটিকে "ফটোশপ কূটনীতি" এবং পাকিস্তানের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি বলে আখ্যা দেন। এরপর অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে পাকিস্তান।
পাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রথমে যে এডিটেড ছবিটি শেয়ার করা হয়, তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে (মঙ্গলবার দুপুর ৩:৩২ মিনিট নাগাদ) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিজেই মূল ছবিটি শেয়ার করেন, যেখানে সকল বিশ্বনেতা উপস্থিত ছিলেন।
বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনের আগে তোলা এই মূল ছবিতে এসসিও সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিতে বাম থেকে ডানে দাঁড়িয়ে আছেন এসসিও মহাসচিব নুরলান ইয়েরমেকবায়েভ, বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি সাদির জাপারভ, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইমোমালি রাহমন, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিওয়েভ এবং এসসিও আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর প্রধান উলারবেক শারশেভ।
সিলেক্টিভ ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে শাহবাজ শরীফকে কয়েকজন বিশিষ্ট নেতার সঙ্গে কেন্দ্রে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। তবে, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পরে দুপুর ৩:৩২ মিনিটে পাক প্রধানমন্ত্রী নিজেই সকল বিশ্বনেতাদের উপস্থিত থাকা সম্পূর্ণ গ্ৰুপ ফোটোটি শেয়ার করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬), প্রধানমন্ত্রী মোদী এসসিও মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে পাকিস্তানকে আয়নায় দেখান। প্রধানমন্ত্রী মোদী এসসিও-কে সেইসব দেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, যারা সন্ত্রাসবাদকে সরকারি নীতির একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসী নিয়োগের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াইয়ে দ্বৈত নীতি পরিহার করারও আবেদন জানান।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সংযোগ প্রকল্পগুলোকে অবশ্যই সকল দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে, কারণ এটিই এসসিও সনদের মূল চেতনা। ভারত বিআরআই-এর বিরোধিতা করে আসছে কারণ এর একটি অংশ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মধ্য দিয়ে গেছে।


No comments:
Post a Comment