বিনোদন ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব একাদশী পালিত হয়। এটি পদ্ম একাদশী নামেও পরিচিত। বিশ্বাস অনুসারে, চাতুর্মাসের সময় ভগবান বিষ্ণু ক্ষীরসাগরে যোগনিদ্রায় অবস্থানকালে এই দিনে পক্ষ বা পাশ পরিবর্তন করেন। এই কারণেই একে 'পার্শ্ব একাদশী' বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে যথাযথ আচার-অনুষ্ঠান সহকারে ভগবান বিষ্ণুর পূজা ও উপবাস পালন করলে পুণ্যফল লাভ হয় এবং পাপ থেকে মুক্তি মেলে।
এদিন কী করা উচিৎ নয়?
ভাত খাওয়া নিষিদ্ধ: একাদশী তিথিতে ভাত খাওয়া নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে ভাত খাওয়া পাপ বলে গণ্য করা হয়।
তামসিক খাবার পরিহার করুন: এই দিনে রসুন, পেঁয়াজ, মাংস, মদ, ডিম সহ অন্যান্য তামসিক খাবার পরিহার করা উচিৎ। যাঁরা উপবাস পালন করেন, তাঁদের কেবল সাত্ত্বিক বা ফলজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিৎ।
ক্রোধ ও পরচর্চা পরিহার করুন: একাদশীতে মন শান্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ক্রোধ, কটু ভাষা, অপবাদ বা পরচর্চা পরিহার করতে হবছ।
দিনের বেলায় ঘুম পরিহার করুন: বিশ্বাস অনুসারে, যাঁরা একাদশীতে উপবাস পালন করেন, তাঁদের দিনের বেলায় ঘুমানো উচিৎ নয়। এই সময়টি দেবতার নাম জপ, স্তোত্রগান এবং ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করা উচিৎ।
শারীরিক পরিচ্ছন্নতার নিয়ম: একাদশীতে চুল কাটা, দাড়ি কামানো বা নখ ছাঁটাও নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়।
পরিবর্তনী একাদশী পূজার পদ্ধতি-
সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার, হলুদ বা সাদা রঙের পোশাক পরুন। তারপর, হাতে জল ও চালের দানা নিয়ে ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে উপবাস পালনের প্রতিজ্ঞা করুন। আপনার পূজার স্থানে ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন। তাঁকে গঙ্গার জল, হলুদ ফুল, তুলসী পাতা, চালের দানা, ধূপ, একটি প্রদীপ এবং মিষ্টি নিবেদন করুন। ভগবান বিষ্ণুর পূজায় তুলসীকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, তাই ভগবান বিষ্ণুকে অবশ্যই তুলসী নিবেদন করবেন। এরপর, ভগবান বিষ্ণুর মন্ত্র জপ করুন এবং একাদশী উপবাসের কাহিনী পাঠ করুন। সবশেষে, একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে ভগবান বিষ্ণুর আরতি করুন।
বি.দ্র: এখানে দেওয়া তথ্য সাধারণ বিশ্বাস ও মান্যতার ওপর ভিত্তি করে। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

No comments:
Post a Comment