কলকাতা: চোরবাগান কাণ্ডে সাতজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় এই পুজো মণ্ডপে ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পদপিষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯। মৃতদের মধ্যে রয়েছে সাত বছরের এক শিশু ও মহিলারাও। মর্মান্তিক এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুন, সংঘটিত অপরাধের মতো ধারায় (স্বতঃপ্রণোদিত) মামলা রুজু করেছে পুলিশ।এর মধ্যে বিএনএস-র ১০৫ ও ১১০ নম্বর ধারা রয়েছে। ধৃতদের মধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতি, বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন।
পাশাপাশি চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেই সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করেছে লালবাজার। আগামী তিনদিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকে চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা।
জানা গিয়েছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার জেরে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ১৪ জনকে আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তাঁদের মধ্যে অনভিপ্রেত গাফিলতি ও নিরাপত্তার ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে মণ্ডপ চত্বরে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্যান্ডেলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তাগুলি নিয়ে গঠিত ব্যবস্থাপনার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই গ্রেফতারি।
তদন্ত সূত্রে খবর, পুজো মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ভিআইপি পাসের চেকিং এবং বেসরকারি নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। আয়োজক কমিটির উচ্চপদস্থ কর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের এই যৌথ অবহেলার কারণেই এদিন মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এমন ভয়াবহ এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে সোমবার সকাল থেকেই থমথমে চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপ ও তৎসংলগ্ন রাজপথ। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা এড়াতে ওই এলাকার আশপাশের রাস্তায় কঠোরভাবে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। এই পুজো মণ্ডপের চারপাশের নির্দিষ্ট রাস্তায় সাধারণ মানুষের কোনও ধরনের জমায়েত বা ভিড় করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment