ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৬ অক্টোবর ২০২৬: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ। মঙ্গলবার দিল্লীর রাস্তায় বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোট শক্তিশালী শক্তি প্রদর্শন করে। সংসদের মকর গেট থেকে নির্বাচন ভবন (ইসিআই সদর দপ্তর) পর্যন্ত বিরোধী সাংসদদের মিছিল পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংসদদের এই বাধায় ক্ষুব্ধ হয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা রাস্তায় অবস্থানে বসে পড়েন।
নির্বাচন ভবনে যেতে পুলিশ বাধা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর সরাসরি আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সাংসদ) এবং আমাদের নিজেদের দেশেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের থামিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি না কেন আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে পারছি না! জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে আছেন। যদি নির্বাচন কমিশনারই দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে এই গণতন্ত্রের মানেটা কী?"
ঝাঁঝালো আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, "আমরা গণতন্ত্র বাঁচাতে এখানে দাঁড়িয়েছি। প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্ঞানেশ কুমার একসঙ্গে এই দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এর সঙ্গে জড়িত একজনও পার পাবে না। এটা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং প্রত্যেককে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।"
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, "কিছুক্ষণ আগে প্রায় ৩০০ জন লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ এখানে এসেছিলেন। আমরা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর দুই সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। পুলিশ আমাদের এখানে আটকে দিয়েছে। আমরা ভারতের জনগণের প্রতিনিধি এবং দেশের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব করি। আমি বুঝতে পারছি না কেন ৩০০ জন সাংসদকে এখানে আটকে রাখা হয়েছে এবং এখানে বসে থাকা অবস্থায় কেন তাঁদের নির্বাচন কমিশনে যেতে দেওয়া হচ্ছে না? আমি জানি না সমস্যাটা কী।"
আকাশবাণী ভবনের বাইরে সাংসদদের ধর্নায় বসা প্রতিবাদ বিক্ষোভ ঘিরে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলের সাংসদরা আরএসএস-এর পোশাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ছবি সম্বলিত পোস্টার ও কাটআউট হাতে নিয়েছিলেন।
বিরোধী দলের সাংসদরা "বিজেপিই প্রধান নির্বাচন কমিশনার," "ভোট চোর, সিংহাসন ছাড়ো" এবং "গণতন্ত্র বিক্রয়যোগ্য নয়"-এর মতো স্লোগান তোলেন।
মিছিলটি থামানো হলে ঘটনাস্থলে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাহুল গান্ধী এবং মমতা তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ব্যারিকেডে চড়ে বসেন এবং জনগণকে অভিবাদন করেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে পুলিশ আটক করে একটি বাসে তুলে দেয়। তবে, প্রিয়াঙ্কা বাস থেকে নেমে তাঁর ভাই রাহুল গান্ধীর কাছে ফিরে আসেন এবং আকাশবাণী ভবনের গেটের কাছে রাস্তায় বসে পড়েন।
পরে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা এবং দীপেন্দর সিং হুডা অভ্যর্থনা গেট দিয়ে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন। পুলিশ বারবার এলাকা খালি করার জন্য আবেদন জানালেও, সাংসদ নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় ছিলেন।
কংগ্রেস, এসপি, তৃণমূল এবং বাম দলগুলোর পাশাপাশি বিজু জনতা দলের (বিজেডি) সাংসদরাও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন যে, এই বিক্ষোভে বিজেডির অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সমগ্র বিরোধী দলের ঐক্যের প্রমাণ দেয়।
এর আগে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং মমতা তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নেতাকে পুলিশ আটক করে।


No comments:
Post a Comment