বিনোদন ডেস্ক, ১৫ অক্টোবর ২০২৬: 'ককরোচ'দের সমর্থনে সুর চড়িয়ে বিপাকে আমির খানের ভাগ্নে তথা অভিনেতা ইমরান খান। ইতিমধ্যেই শাস্তির খাড়া নেমে এসেছে অভিনেতার বিরুদ্ধে। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। এবারে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন আমির খানের ভাগ্নে। এর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে, তাঁর আইনি দল শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করবে।
অভিনেতার আইনজীবীর দাবী, ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই)-র আওতায় যাঁরা পড়েন তাঁদের প্রতিবাদে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ইমরান খানের তরফে আদালতে আবেদন জমা পড়ার পর জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হবে। জানা যাচ্ছে, বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে।
এও জানা যাচ্ছে, ইমরান খানের হয়ে মামলা লড়বেন জুলফিকর মেমন, পারভেজ মেমন এবং চিরাগ নায়েক- এই তিন আইনজীবী। বিক্ষোভের পর বিজেপি নেতা বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়া গামদেবী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, 'মার্কিন নাগরিক ইমরান খান রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিয়ে বিদেশি আইন লঙ্ঘন করেছেন।' এরপর গামদেবী থানার পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য অভিযোগটি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর কাছে পাঠায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, এফআরআরও-এর তরফে ইমরানের মার্কিন নাগরিকত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভে তাঁর অংশগ্রহণকে অভিবাসন আইনের বিধি লঙ্ঘন হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় নাগরিক না হয়েও প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের ২৯ ও ৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ জারির ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠতা অভিজিৎ দীপকে। ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে এক্স হ্যান্ডলে তাঁর বক্তব্য, 'মেরি মিলবেন আমেরিকান হয়েও বিজেপির সমর্থনে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ইমরান একজন ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়ার কার্ডধারী হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না।'
উল্লেখ্য, মুম্বাই পুলিশ অভিনেতা ইমরান খানকে 'ভারত ছাড়ো নোটিশ' (এলআইটি) জারি করেছে। নোটিশে তাঁকে ২৮শে অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ই অক্টোবর, ইমরান খান প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবীতে মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে একটি বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন অভিনেতাকে আটকও করে পুলিশ। নোটিশ অনুসারে, ইমরান খান ভারতীয় নাগরিক নন, তবুও তিনি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, যে কারণে মুম্বাই পুলিশ তাঁকে এই নোটিশটি জারি করেছে।
ইমরান খান মুম্বাই পুলিশের নোটিশটি রিসিভও করেছেন। গত ১০ই অক্টোবর, ইমরান খান সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবীতে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজেপি-র একটি বিক্ষোভে অংশ নেন। মুম্বাই পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং বিক্ষোভে জড়িত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশের মতে, অ-ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে ২৮শে অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

No comments:
Post a Comment