অরুণাচল জুড়ে চীনা সেনার সঙ্গে সংঘাত, জানালেন আইটিবিপি প্রধান! প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা কংগ্রেসের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, October 23, 2026

অরুণাচল জুড়ে চীনা সেনার সঙ্গে সংঘাত, জানালেন আইটিবিপি প্রধান! প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা কংগ্রেসের


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের একাধিক স্থানে চীনা সেনার সঙ্গে সংঘাত জারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-র মহানির্দেশক তথা ডিজি। এটা উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল সীমান্তে চলতে থাকা সংঘাতের বিষয়ে এই প্রথম সরকারি ভাবে স্বীকারোক্তি। গত কয়েক মাসে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


আইটিবিপি-র মহানির্দেশক শত্রুজিৎ কাপুর জানিয়েছেন, গত জুলাই মাস থেকেই এই সংঘাত জারি রয়েছে। যখন খবর আসে যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর তাকসিং এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ টহলদারি পয়েন্টগুলিতে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে চীনা সেনা। আইটিবিপি কর্মীদের বার্ষিক সম্মাননা অনুষ্ঠানে কাপুর বলেন, “গত কয়েক দিনে অরুণাচলের একাধিক স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় আর তা এখনও জারি রয়েছে।”


যদিও আইটিবিপি-র প্রধান জানিয়েছেন সংঘাতের সময় ফোর্সের শৌর্য কমান্ডোরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের সদ্য গঠিত শৌর্য কমান্ডোরা এই পরিস্থিতিতে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেছেন।” উল্লেখ্য, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কমান্ডোরা।


১৯৬২ সালে গঠিত আইটিবিপি ভারত-চীনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে। কাপুর বলেন, “আইটিবিপি একটি পার্বত্য গেরিলা বাহিনী হিসেবে গঠিত হয়েছিল। ২০০৪ সালে আমাদের চীন সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের মূল কাজ ও প্রাথমিক ভূমিকা থেকে সরে আসা উচিৎ নয়।"


চীন সীমান্তকে ‘সবচেয়ে কঠিন’ বলে উল্লেখ করে আইটিবিপি-র মহানির্দেশক জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী সমস্ত ইউনিটে ড্রোন পরিচালনার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। গালওয়ানের মতো পরিস্থিতি আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্তে ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


জুলাই মাসে অরুণাচল প্রদেশের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল (পিপিএ)-র একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল দাবী করে যে, তাকসিং এলাকায় নির্দিষ্ট টহলদারি পয়েন্টগুলিতে ভারতীয় বাহিনীর প্রবেশ কার্যত আটকে দিচ্ছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। পাশাপাশি, আপার সুবনসিরি জেলায় চীনের কার্যকলাপ বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরে ওই দল।


উল্লেখ্য, পিপিএ অরুণাচল প্রদেশের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। রাজ্য বিধানসভায় দলটির দু’জন বিধায়ক রয়েছেন। তবে পিপিএ-র এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকার।

এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি দাবী করে বিরোধী দলটি।


অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে জানান, অরুণাচল প্রদেশে চীনের তরফে নতুন করে কোনও এলাকা দখলের ঘটনা ঘটেনি। তবে সীমান্তবর্তী কিছু চারণভূমিতে যাতায়াতের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথা তিনি স্বীকার করেন।


এবার আইটিবিপি-র মহানির্দেশকের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারকে আক্রমণ করার সুযোগ পেয়েছে কংগ্রেস। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ও বিরোধীদের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad