ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: রাত বিরেতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল জম্মু রেলস্টেশনের সামনে অবস্থিত শিবা মার্কেট। রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একাধিক দোকানে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে দমকলের একাধিক দল।
একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০-৫০ টি দোকান ও একটি হোটেল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এদিন রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আগুন লাগে। এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদেরও। প্রবল হাওয়া এবং দোকানের ভিতরে মজুত দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুনের শিখা ক্রমশ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এমনকি দোকানগুলির উপরের তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও দোকানের ভিতরে থাকা মালপত্র বের করে আনার জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যান দোকানদারেরা।
তবে, একাধিক দোকানে আগুন সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে নেয় সমস্ত সামগ্রী। দোকানদারদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁরা সব মালপত্র বাইরে বের করে আনতে পারেননি। শিব মার্কেটে শুকনো ফল, পোশাক, কম্বল-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর একাধিক দোকান রয়েছে। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি বিধায়ক বিক্রম রন্ধাওয়া জানান, রেলস্টেশনের কাছে অবস্থিত শিবা মার্কেট একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। সেখানে শুকনো ফল, কম্বল-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে খাবারের দোকান ও ধাবাও।
বিধায়ক বিক্রম রন্ধাওয়ার দাবী, একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আশপাশের দোকানগুলিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের গাড়ি পৌঁছনোর আগেই আগুন গোটা বাজারের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও আগুন লাগার সঠিক কারণ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
বিক্রম রন্ধাওয়া জানান, তাঁর অনুমান, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। তিনি আরও জানান, দোকানদারেরা প্রশাসনকে সব রকম সহযোগিতা করছেন। ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলাশাসক (ডিসি), দক্ষিণের পুলিশ সুপার, ডিএসপি, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সাহায্য করেন নাগরিক সমাজের সদস্যরাও।
বিজেপি বিধায়ক বলেন, এই অগ্নিকাণ্ড অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আপাতত আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তা পুরো বাজারটিকে গ্রাস করে ফেলে। দোকানদার ও স্থানীয়রা নিজেদের জিনিসপত্র বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

No comments:
Post a Comment