জঙ্গলমহলের পথে ছুটে চলেছে 'বেন্টলি', মাদলের তালে সাঁওতালি নাচে মত্ত সাহেবরা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, October 13, 2026

জঙ্গলমহলের পথে ছুটে চলেছে 'বেন্টলি', মাদলের তালে সাঁওতালি নাচে মত্ত সাহেবরা

 


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: বেন্টলির ‘স্পিড সিক্স’ মডেলের দু’টি ভিন্টেজ গাড়িতে চেপে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছেন ইংল্যান্ডের রবার্ট উইলকিনসন ও জন ওয়ালটন। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে দু'জন ভারত সফরে এসেছেন। সেই বিশ্বভ্রমণের যাত্রাপথে এবার জায়গা করে নিল ঝাড়গ্রাম জেলার জঙ্গলমহলের আদিবাসী গ্রাম। আদিবাসী সংস্কৃতি ও লোকনৃত্যে মুগ্ধ হলেন দুই ব্রিটিশ পর্যটক। 


ব্রিটিশ রবার্ট ও জন দীর্ঘদিন ধরে অটোমোবাইল শিল্পে আমদানি করা গাড়ি বিক্রির কাজে যুক্ত ছিলেন। এক সময় কর্মক্ষেত্রে ছিলেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই সম্পর্ক। আমেরিকার লাস ভেগাসের ঝলমলে শহর, থেকে আলাস্কার হিমশীতল প্রান্তর, আন্দিজ পর্বতমালা, আতাকামা মরুভূমি, বলিভিয়ার লবণাক্ত সমভূমির দুর্গম পথ পেরিয়ে তাঁদের বেন্টলি ঝাড়গ্রামের আদিবাসী গ্রামে এসে পৌঁছেছে। আদিবাসী রীতি মেনে গ্রামবাসীরা তাঁদের সম্বর্ধনা জানান। স্থানীয় শিল্পীরা ধামসা-মাদল বাজিয়ে ডং ও লাংড়ে নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পীদের কাছ থেকে মাদল বাজানো শেখার চেষ্টাও করেন রবার্ট। এরপর গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলও ঘুরে দেখেন তাঁরা। আদিবাসী গ্রামজীবন, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি লাংড়ে ও ডং নাচের ছন্দে মুগ্ধ হন দুই পর্যটক। মাদলের বোলে যখন সাঁওতালি 'লাংড়ে' ও 'ডং' নাচের সুর বাঁধে, সাহেবরা আর স্থির থাকতে পারলেন না। সটান খাঁটিয়া ছেড়ে উঠে নিজের গলায় ভারী মাদল ঝুলিয়ে বাজাতে শুরু করলেন রবার্ট, আর সেই তালে হাততালি দিয়ে মেতে উঠলেন প্রবীণ জন। বিলিতি সাহেবদের এমন রূপ দেখে হাসির রোল উঠল লালমাটির উঠোনজুড়ে। 



স্থানীয়দের কথায়, দুই পর্যটক এখানে এসে আপ্লুত হয়েছেন। রাজ্য সরকার পর্যটনের প্রসারে উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে ঝাড়গ্রাম জায়গা করে নিক। গ্রামের বাসিন্দা ফাগু মান্ডি জানান, এমন গাড়ি বা এমন দৃশ্য জীবনে আগে কখনও দেখেননি তাঁরা। ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের কর্ণধার সুমিত দত্ত জানান, শতবর্ষ প্রাচীন গাড়িতে সাহেবদের এই আগমন আন্তর্জাতিক স্তরে ঝাড়গ্রামের পর্যটনকে এক আলাদা মাত্রা দিল। আগামী ২৪ অক্টোবর দিল্লি থেকে লন্ডনের বিমানে ওঠার আগে, জঙ্গলমহলের মাটির গন্ধ আর মাদলের অবিস্মরণীয় সুরকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলল তাঁদের শতাব্দী প্রাচীন চারচাকা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad