ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: মোবাইল ফোন আমাদের নিত্য সঙ্গী। বিনোদন থেকে শুরু করে দরকারি নানান কাজে মুঠোফোন আমাদের অবশ্যই প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন দূরে কোথাও যাত্রা করা হয়। কিন্তু সমস্যা হয় যখন এটির চার্জ ফুরিয়ে যায়। যদিও ট্রেনে যাত্রা করলে এই সমস্যর সম্মুখীন হতে হয় না। কিন্তু এবার থেকে সেই সুবিধায় কাটছাঁট করছে রেল। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে বন্ধ থাকবে মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট।
সম্প্রতি একটি এসি কামরায় চার্জ দেওয়ার সময় পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনার পর এই কড়া পদক্ষেপ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার দিন বিস্ফোরণের জেরে আগুনের সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ধোঁয়ায় ভরে যায় ট্রেনের কামরা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। এই ঘটনার জেরে শনিবার ভোরে ওড়িশার বান্দামুন্ডা স্টেশনের কাছে মুম্বই-হাওড়া মেল প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য থামিয়ে দিতে হয়।
ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে রেল বোর্ডের বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ারিং (সাধারণ) বিভাগের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওএসডি) সৌমিত গুপ্ত সমস্ত জোনাল রেলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করেছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখতে হবে। ২৬ অক্টোবরের জারি চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই নিয়মের ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় দেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ২৪ অক্টোবর অর্থাৎ গত শনিবার ভোর প্রায় ৩টা ৩৮ মিনিটে মুম্বই-হাওড়া মেলে ফের ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি (১২৮০৯ নম্বর) ওড়িশার বান্দামুন্ডায় বৈদ্যুতিক শেডের কাছে ডাউন লাইনে থেমেছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বি-৩ কামরার ছয় নম্বর বার্থে চার্জ দেওয়ার সময় এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়। এর জেরে আগুন লাগে এবং কামরার ভিতর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বেজে ওঠে আগুনের সতর্কতামূলক অ্যালার্ম। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন রেলকর্মীরা। ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক ওই যাত্রীকে অন্য একটি বার্থে সরিয়ে দেন। পরে ভোর ৩টা ৫৩ মিনিটে ফের যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি।
ট্রেনটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় এই ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে রেল।
রেলকর্মীদের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রাতের বেলায় ট্রেনের চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া চলবে না। পাশাপাশি, রেলকর্মীদের পরামর্শদান ও প্রশিক্ষণের ওপরেও জোর দিয়েছে রেলওয়ে বোর্ড। এমনকি নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আধিকারিক ও তত্ত্বাবধায়কদের আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত রেলওয়ে বোর্ডের একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে। ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট ছয় ঘন্টার জন্য ট্রেনের কামরায় মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীবাহী ট্রেনে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে, রাতের বেলায় বৈদ্যুতিন যন্ত্র চার্জে বসিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, যাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে থাকেন, তখন যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, ধোঁয়া বেরোনো কিংবা ব্যাটারি বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির অন্য কোনও লক্ষণ দেখা দিলেও তা সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের নজরে নাও আসতে পারে। রেলওয়ে বোর্ডের দাবী, দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের অধীনে চলাচলকারী ট্রেনে এই ঘটনা ঘটেছিল নির্ধারিত সময়ে রেলকর্মীরা মোবাইল চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করায়।
প্রসঙ্গত, রাতে ট্রেনে মোবাইল চার্জিং বন্ধ রাখার নিয়ম নতুন নয়। ২০১৪ সাল থেকেই এই বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। ওই বছরের ১৯ জুন বেঙ্গালুরু-হজুর সাহিব নান্দেড় এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের পর এই নিয়ম লাগু করা হয়েছিল। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ফের এই নিয়ম কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় পশ্চিম রেলওয়ে ১৬ মার্চ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে শুরু করে। সেই সময় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে পশ্চিম রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সুমিত ঠাকুর জানিয়েছিলেন, “এটি রেলওয়ে বোর্ডের নির্দেশ, যা সমস্ত রেলওয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমরা ১৬ মার্চ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে শুরু করেছি।”
সাম্প্রতিক নির্দেশিকার মাধ্যমে রেলওয়ে বোর্ড ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, আগে জারি করা নির্দেশগুলি কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। রাতের ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের যাত্রা শুরুর আগেই মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিন যন্ত্র চার্জ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

No comments:
Post a Comment