ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূল করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আর এবারে এর শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলতে হবে। বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি নকশাল সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষত সারিয়ে তোলা এবং তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার ওপরেও জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসক হিসাবে ২৫ বছর পূর্তির অঙ্গ হিসাবে 'সেবা সংকল্প অভিযান'-এর আওতায় ছত্তিশগড়ের নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন যে, কেবলমাত্র নকশালবাদ নির্মূল করাই যথেষ্ট নয়। গত পাঁচ দশক ধরে নকশালবাদের কারণে বস্তারের দরিদ্র আদিবাসী সম্প্রদায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। দুর্ভোগের এই স্মৃতি চট করে মুছে যাবে না। কিন্তু আমাদের এর প্রতিটি চিহ্নও মুছে ফেলতে হবে এবং বস্তারকে ফের একটি সুখী, শান্ত ও প্রাণবন্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইইডি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিরীহ নাগরিকদের পঙ্গু করে দেওয়া মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের আগে দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূল করার সংকল্প গ্রহণ করেছিল। তিনি দাবী করেন যে, নকশালবাদ এখন নির্মূল হয়েছে। তবে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, শুধু নকশালবাদের অবসানই কয়েক দশকের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে পারে না। ভুক্তভোগীদের পুনরায় স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করা এবং তাদের একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন প্রদান করাও অপরিহার্য।
অমিত শাহ জানিয়েছেন যে 'সেবা সংকল্প অভিযান'-এর অধীনে দিব্যাঙ্গ সেবা শিবিরের দ্বিতীয় পর্ব চালু করা হচ্ছে। ছত্তিশগড়ে নকশাল সহিংসতার শিকার প্রতিবন্ধী আদিবাসীদের কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল, ক্রাচ, হিয়ারিং এইড, স্মার্ট ওয়াকিং স্টিক এবং কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। এর লক্ষ্য হল ভুক্তভোগীদের জীবন সহজ করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জগদলপুরে অনুষ্ঠিত শিবির থেকে ৩,৬০০-এর বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উপকৃত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১,৫৭০ জনেরও বেশি সুবিধাভোগী শুধুমাত্র বস্তার অঞ্চলেরই ছিলেন। শাহ বলেন যে, এই সংখ্যাটি এই অঞ্চলে নকশাল সহিংসতার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের তীব্রতাকেই প্রতিফলিত করে। ছত্তিশগড় সরকার, জেলা প্রশাসন, রাজ্য সমাজকল্যাণ বিভাগ এবং জয়পুরের ভগবান মহাবীর বিকলাঙ্গ সহায়তা সমিতি সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা এই প্রচারাভিযানে সহযোগিতা করছে।

No comments:
Post a Comment