ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের মানুষের সঙ্গে নিজের ভাবনা ভাগ করে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এটি তাঁর মাসিক বেতার অনুষ্ঠানের ১৩৯তম পর্ব। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান তাঁর কাছে তীর্থযাত্রার মতো। পাশাপাশি তুলোর চাষের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মোদী জানান, পাঞ্জাবে ‘খেতি বিরাসত মিশন’ নামে একটি সংস্থা জৈব ও প্রথাগত কৃষিপদ্ধতিকে নতুন করে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্থার সদস্যরা পাঞ্জাবের মালওয়া অঞ্চলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তুলোর চাষ বাড়াতে চেয়েছিলেন। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নব-ত্রিঞ্জন’।
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “উৎসবের এই মরসুমে আপনারা প্রত্যেকেই আশপাশে একটি পরিবর্তন নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন। এখন মানুষ কেনাকাটার সময় দেশীয় পণ্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ‘ভোকাল ফর লোকাল’—এর এই ভাবনা আমাদের পণ্যগুলিকে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে।”
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীপাবলি ও ছটপুজোর পবিত্র উৎসব আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এই উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা যেখানে থাকি, সেই জায়গাগুলি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টাই আশপাশে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “উত্তরাখণ্ডের তেহরি গাড়োয়াল অঞ্চলের মানুষ একজোট হয়ে হেভাল নদীকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিছুদিন আগে এই নদীর জলস্তর কমতে শুরু করেছিল। আশপাশের প্রাকৃতিক জলস্রোতগুলিও শুকিয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীরা একসঙ্গে নদী বাঁচানোর অভিযান শুরু করেন। এই উদ্যোগের আওতায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর পুনরায় বাড়ানো এবং প্রচুর গাছ লাগানোর মতো পদক্ষেপ করা হয়। আজ সেই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ হেভাল নদী আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। একই সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে কয়েক ডজন প্রাকৃতিক জলস্রোতও।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগের আওতায় কোনও রাসায়নিক ব্যবহার না করেই জৈব তুলোর চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক রঙের তুলোও উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে এই তুলো থেকে তৈরি সুতো ও কাপড় রং করার জন্য আলাদা করে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এর ফলে পরিবেশের কতটা উপকার হচ্ছে, তা সহজেই অনুমান করা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোকাল ফর লোকাল প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিহারের মাখানা এবং কর্নাটকের অড়হর ডাল বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী পণ্যগুলিও এমন আকর্ষণীয় মোড়কের মাধ্যমে পরিচিতি পাচ্ছে, যা আদিবাসী শিল্পকলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। পাশাপাশি খাদির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছেন সেই সব কারিগর, যাঁদের শিল্পকলা দেশের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান, স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পণ্য বেছে নিয়ে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ উদ্যোগকে আরও মজবুত করতে হবে।
‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, “১২ বছর আগে বিজয়াদশমীর পবিত্র দিনে আমরা ‘মন কি বাত’ শুরু করেছিলাম। সেই থেকে আমাদের এই যাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রায় আপনারা প্রত্যেকেই আমার সহযাত্রী, আবার পথপ্রদর্শকও। আমার কাছে ‘মন কি বাত’ দেশের সাধারণ মানুষের কঠোর পরিশ্রম, সাহস, সংকল্প, নিষ্ঠা এবং সেবার মনোভাবকে উদ্যাপন করার একটি অসাধারণ সুযোগ। আমাদের দেশে বহু শতাব্দী ধরে তীর্থযাত্রার ঐতিহ্য রয়েছে। আমার কাছে ‘মন কি বাত’ কোনও তীর্থযাত্রার চেয়ে কম নয়। এই যাত্রার মাধ্যমে আমি দেশবাসীর প্রচেষ্টাকে কাছ থেকে বুঝতে পারি এবং তাঁদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারি।”

No comments:
Post a Comment