ছোট্ট শিশুদের কেন লিপস্টিক-লিপবাম লাগানো উচিৎ নয়? কারণ জানালেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, October 30, 2026

ছোট্ট শিশুদের কেন লিপস্টিক-লিপবাম লাগানো উচিৎ নয়? কারণ জানালেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ


বিনোদন ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর ২০২৬: আজকাল অনেক অভিভাবকই তাঁদের ছোট মেয়েদের ঠোঁটে লিপস্টিক বা লিপবাম লাগাতে মোটেও দ্বিধা করেন না। কোনও উৎসব, ছবি তোলা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে রিলস তৈরির সময় ছোট শিশুদের ঠোঁটে লাল রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রবণতা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেক ছোট্ট শিশুও বিভিন্ন সময়ে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগাতে পছন্দ করে। তবে এই শখ কখনও কখনও তাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ৩-৪ বছর বা তার বেশি ছোট শিশুদের ঠোঁটে লিপস্টিক বা লিপবাম লাগানো আদৌ নিরাপদ কিনা, তা নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে লিপস্টিক ও লিপবাম ব্যবহারের কারণে অ্যালার্জির মতো সমস্যার ঘটনাও সামনে আসে। এই ধরণের কিছু ঘটনা তুলে ধরে ইনস্টাগ্রামে চিকিৎসক পবন শিশুদের লিপস্টিক ও লিপবাম ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।


শিশুদের লিপস্টিক ও লিপবাম ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক-

১. হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

কিছু প্রসাধনীতে প্যারাবেন ও ফ্যালেটের মতো রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক শরীরের অন্তঃক্ষরা তন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে সাধারণ প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে শিশুদের অল্প বয়সে বয়ঃসন্ধি শুরু হয় বা ঋতুস্রাব তাড়াতাড়ি হয়—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ নেই। তাই পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।


২. রাসায়নিক শরীরের ভিতরে প্রবেশের আশঙ্কা

ছোট শিশুরা অনেক সময় ঠোঁটে লাগানো লিপস্টিক বা লিপবাম চেটে ফেলে। ফলে পণ্যের কিছু উপাদান মুখের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। লিপস্টিক বা লিপবামে ব্যবহৃত রং, কৃত্রিম সুগন্ধি, স্বাদবর্ধক উপাদান এবং মোমের মতো উপকরণও এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য। তাই ছোট শিশুদের জন্য প্রসাধনী বেছে নেওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।


৩. ভারী ধাতুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি

কিছু প্রসাধনীতে সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি ভারী ধাতুর সংস্পর্শ স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সংস্পর্শে এলে কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে সব লিপস্টিকে বিপজ্জনক মাত্রায় এই ধাতুগুলি থাকে, এমন নয়। পণ্যের গুণমান ও উপাদানের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।


৪. ত্বকে জ্বালা ও ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা

ছোট শিশুদের ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত কোমল ও সংবেদনশীল। লিপস্টিক বা লিপবামের কোনও উপাদান সহ্য না হলে ঠোঁটে লালচে ভাব, চুলকানি, জ্বালা কিংবা অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা ও ফাটার সমস্যাও হতে পারে।


৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষতি 

ছোট শিশুদের লিপ বাম, লিপ গ্লস এবং লিপস্টিকের মতো পণ্য ব্যবহার করলে তা তাদের বিকাশমান যকৃত এবং বৃক্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, কারণ এগুলিতে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিক উপাদান শরীরে প্রবেশ করে এই অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। এছাড়াও, এই রাসায়নিক-পূর্ণ প্রসাধনী পণ্যগুলি দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের অ্যালার্জির ঝুঁকি তৈরি করে। তাই ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ পণ্য বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


সতর্কতা: শিশুদের ঠোঁট শুষ্ক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুগন্ধিবিহীন, শিশুদের জন্য উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজিং পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। নতুন কোনও পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে ফোলাভাব, তীব্র জ্বালা বা র‍্যাশ দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঠোঁট বা জিভ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad