জানুন চোখ বেশি রগড়ালে কি সমস্যা হয় - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 17 July 2022

জানুন চোখ বেশি রগড়ালে কি সমস্যা হয়

 






কোনো কিছুর দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর কিংবা চোখে কিছু পড়লে বেশিভাগ মানুষই চোখ কচলান। এমনকি যারা এটি করার ক্ষতি সম্পর্কে অবগত তারাও নিজেকে সামলাতে পারেন না।


চিকিৎবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে চোখে অস্বস্তি হলে রগড়ালে আরাম বোধ হওয়ার কারণ এতে ‘ভ্যাগাস’ নামক স্নায়ু উজ্জীবিত হয়, যা হৃদস্পন্দন ধীর করে এবং অস্বস্তি কমায়।


কিন্তু এসময় চোখে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে কিংবা বিষয়টা যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে তা থেকে দেখা দিতে পারে চোখের বিভিন্ন রোগ। বাড়াতে পারে অস্বস্তিও। এছাড়াও বাড়ায় চোখে সংক্রমণের আশঙ্কা।


স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল চোখ কচলানো ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে।


প্রায় সময় চোখ কচলালে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে ‘কর্নিয়া’তে। সেখান থেকে ‘কর্নিয়া’য় বিকৃতি দেখা দিতে পারে যার আরেক নাম ‘কেরাটোকোনাস’। এছাড়াও অতিরিক্ত চোখ কচলানো কারণে ‘কর্নিয়াল টিস্যু’ পাতলা হতে থাকে এবং তার আকৃতি পরিবর্তীত হয়ে ‘কোন-শেইপ’ বা শঙ্কু আকৃতি ধারণ করতে থাকে। ‘কর্নিয়া’য় এমন ক্ষতি তীব্রমাত্রায় পৌঁছালে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বদলাতে হতে পারে।চোখে খচখচানি অনুভুতি হওয়ার পেছনে সচরাচর দায়ী হয় ধুলিকণা কিংবা চোখের পাতার একটি লোম, যা চোখে সৃষ্টি করে প্রচণ্ড অস্বস্তি। এমতাবস্থায় চোখ কচলালে ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর সেই ক্ষতির প্রভাবও পড়বে ওই ‘কর্নিয়া’তেই। এতে ‘কর্নিয়া’য় আঁচড় পড়ে যায়, যা সাধারণত কয়েকদিনে সেরে যায়। তবে তা সেরে ওঠার সুযোগ না পেলে হতে পারে ‘আলসার’ বা ঘা। তাই চোখে যাই প্রবেশ করুক না কেনো পানির ঝাপটা দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।



যাদের ইতোমধ্যেই চোখে সমস্যা আছে তাদের এই বিষয়ে বিশেষ সাবধান থাকা উচিৎ, বিশেষত ‘গ্লুকোমা’য় আক্রান্তদের। চোখের ভেতরে চাপ বেশি হওয়ার কারণে এই রোগ দেখা দেয়, যাকে বলা হয় ‘ইন্ট্রাকুলার প্রেশার (আইওপি)’। এই চাপ থেকে চোখের বিভিন্ন স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে, যার ফলাফল হবে দৃষ্টিশক্তির বিনাশ। ‘গ্লুকোমা’র ওষুধ সেবনকারী রোগীদের উচিৎ একবারেই চোখ কচলানো থেকে বিরত থাকা, কারণ ওষুধের কারণেও চোখে অস্বস্তি হয়ে থাকে।


অপথালমোলজি শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ তীব্রভাবে ‘মাইওপিয়া’তে আক্রান্ত এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ আরও খারাপ হচ্ছে।


জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কার মূল হল হাত। যতই ভালোভাবে পরিষ্কার করা হোক না কেনো প্রতিটি মানুষের হাতে সবসময়ই অসংখ্য জীবাণু বিচরণ করে। এই হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করা থেকে চোখ লাল হওয়া, চোখ ওঠা বা ‘কনজাংটিভাইটিস’ ইত্যাদি দেখা দেয়। চোখে জীবাণুর সংক্রমণ হলে উষ্ণ ভাপ দিলে আরাম মিলবে।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad