ফিল্ম সিটি তৈরির পরিকল্পনায় ছিলেন ক্যাশ ক্যুইন অর্পিতা, ছিলেন এই গুণেরও অধিকারী - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 2 August 2022

ফিল্ম সিটি তৈরির পরিকল্পনায় ছিলেন ক্যাশ ক্যুইন অর্পিতা, ছিলেন এই গুণেরও অধিকারী


শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ইডি-র হাতে ধরা পড়া বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ, অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের কাহিনী, কোনও সিনেমা থেকে কম নয়। অর্পিতা হয়তো তার জীবনে ছোট ছোট ছবিতে, ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন, কিন্তু গত কয়েক বছরে তিনি ঠিক ততটাই বড় বড় স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেই বড় স্বপ্নগুলো পূরণও করেছেন।


আপনি জেনে অবাক হবেন যে, বাংলায় একটি সম্পূর্ণ ফিল্ম সিটি বানানোর স্বপ্ন ছিল অর্পিতার। এই ফিল্ম সিটির জন্য তিনি বাংলার নদীয়া জেলায় জমিও দেখেছিলেন। বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিল।  ফিল্ম সিটি করার জন্য কিছু মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলোচনায় ছিলেন তিনি।


ইডি-র জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, চলচ্চিত্রের জগতে কাজ করার পরে, তিনি মনে করেছিলেন যে বাংলাতেও একটি বলিউড স্টাইল ফিল্ম সিটি হওয়া উচিৎ। এই কারণেই তিনি নদীয়া জেলায় ফিল্ম সিটি তৈরির মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। তবে ইডি-র তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও জমি কেনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।


অর্পিতা মুখোপাধ্যায় তখন সংবাদ শিরোনামে আসেন, যখন তার দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে প্রথম টাকার পাহাড় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত সিনেমা জগতে তাকে খুব কম মানুষই চিনতেন। বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে  গ্রেফতার করা হয় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলা এবং ওড়িয়া চলচ্চিত্র শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। তিনি তার ছোট বেলায় মডেলিংও করতেন।


বিনোদন শিল্পে সীমিত সাফল্য সত্ত্বেও, অর্পিতা মুখোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার জোকা এলাকায় একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। ইডি সূত্রের খবর, তিনি প্রায়ই শহরের হুক্কা বারে যেতেন। অর্থাৎ জুয়া খেলারও শখ রাখতেন পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা। এ ছাড়াও তিনি ব্যাংকক, সিঙ্গাপুরের মতো জায়গায়ও গিয়েছিলেন।


অর্পিতা শহরের উত্তরে বেলঘোরিয়ায় একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং কলেজ জীবন থেকেই মডেলিং করছিলেন। সূত্র জানিয়েছে যে, তার বাবার মৃত্যুর পরে, তিনি ঝাড়গ্রামের একজন ব্যবসায়ীর সাথে বিয়ে করেছিলেন, তবে এখনও তার বিবাহ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। অর্পিতা এ পর্যন্ত ছয়টি ওড়িয়া ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শুভেন্দু সোয়াইন পরিচালিত 'বন্দে উৎকল জননী' এবং অশোক পতির 'প্রেম রোগি'- এই দুটি ছবিই বক্স অফিসে দারুণ হিট হয়েছিল।


এছাড়াও তিনি 'কেমিটি ই বন্ধন' (২০১১) সহ-অভিনেতা চন্দ্রচূর সিং এবং 'মু কানা ইতে খারাপ' (২০১০) এ অনুভব মোহান্তির সাথে অভিনয় করেছিলেন। তার শেষ ওড়িয়া ছবি ছিল ২০১২ সালে 'রাজু আওয়ারা'।  


এছাড়া অনেক বাংলা ছবিতেও কাজ করেছেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাংলা ছবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 'মামা ভাগনে', 'পার্টনার' ইত্যাদি। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে তাঁর সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না।


এসব ছাড়াও, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের দুর্গা পূজার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন অর্পিতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি এবং ভিডিওগুলিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে মঞ্চ ভাগ করতে দেখা যায় অর্পিতাকে। কিন্তু তার এই এত্ত বিলাসবহুল জীবন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা সবটাই এখন ইডির চাপে ফিকে। দুটো ফ্ল্যাটে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ টাকা ছাড়াও অনেক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে অর্পিতার, ইডির তদন্তে নিত্যনতুন তথ্য উঠে আসছে প্রতিদিন। সামান্য মডেল-অভিনেত্রী থেকে ক্যাশ ক্যুইন হয়ে ওঠা অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের জীবনের জল আগামীতে কোন দিকে গড়ায়, তার উত্তর তো সময়ই দেবে। 



No comments:

Post a Comment

Post Top Ad