বিজেপি বিধায়ককে টাকা দিয়েও মেলেনি চাকরি! থানায় অভিযোগ দায়ের - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 3 September 2022

বিজেপি বিধায়ককে টাকা দিয়েও মেলেনি চাকরি! থানায় অভিযোগ দায়ের


নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় বাংলা। শিক্ষক নিয়োগ কারচুপির মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক আধিকারিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবারে কল্যাণী এইমস-এ নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রানাঘাট দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীর বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগে চাকরি দেওয়ার অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়েছে, এই মর্মে বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি। তাঁর দাবী, এইমস-এ চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। টাকা ফেরত না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন অজিত ঘোষ নামে ওই ব্যক্তি। বিধায়কের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।


উল্লখ্য, এইমস কল্যাণীতে নিয়োগে কারচুপির অভিযোগ ইতিমধ্যেই অনেক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে উঠেছে। বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলদ্রশেখর দানা ও বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষের নামও উঠে এসেছে। দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আত্মীয়দের নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।


নদিয়ার রানাঘাট থানার হাবিবপুরের বিনপাড়ার বাসিন্দা অজিত ঘোষ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী এলাকায় প্রচারে আসতেন। অজিত দাবী করেছেন যে, বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী তাঁর সাথে কথা বলার পরে তাকে কল্যাণী এইমস-এ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিযোগকারীর দাবী, চাকরির জন্য টাকা দেওয়ার কথাও হয়। তিনি বলেন, বিধায়ক তাকে বলেছিলেন যে গ্রুপ ডি পোস্টে চাকরি পেতে, ৮ লক্ষ টাকা এবং গ্রুপ সি পোস্টের জন্য ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। অজিত বলেন যে, 'যেহেতু তিনি একবারে এত টাকা দিতে পারবেন না, তাই তাকে ধীরে ধীরে টাকা দিতে বলা হয়েছিল।'


তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাকরির আশ্বাস পেয়ে জমি বিক্রি করে আড়াই লাখ টাকা দেন। অজিত দাবী করেন, বিধায়ক নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে আর কোনও যোগাযোগ করেননি। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিধায়কের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাকে চিনতে অস্বীকার করেন। টাকা ফেরতের দাবী জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। 


এদিকে এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন নদিয়ার বিজেপি নেতা প্রদীপ সরকার। তিনি দাবী করেন যে, তিনি নিজেই বিধায়ককে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কয়েকবার বলেছিলেন, তবে বিধায়ক এ বিষয়ে কিছু বলেননি, বলেই দাবী বিজেপি নেতার।


এই প্রেক্ষাপটে জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবী, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে। 


উল্লেখ্য, এইমস-এর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে সিআইডি। এদিকে নীলদ্রশেখর দানার মেয়ে মৈত্রী দানাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে, সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট বলেছে যে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের জন্য কেন্দ্রের অনুমতি প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও তদন্ত করা যাবে না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad