টানা দেড় মাস বন্ধ সাঁতরাগাছি সেতু, যানজট এড়াতে বিকল্প পথ জানাল হাওড়া সিটি পুলিশ - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 18 November 2022

টানা দেড় মাস বন্ধ সাঁতরাগাছি সেতু, যানজট এড়াতে বিকল্প পথ জানাল হাওড়া সিটি পুলিশ


নভেম্বর ১৯ থেকে একটানা দেড় মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সাঁতরাগাছির সেতু। অর্থাৎ সেতু বন্ধের জেরে নিত্যযাত্রীদের জন্য হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ নির্দেশিকা।


প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার পর অবশেষে ১৯ তারিখ শনিবার সকাল থেকে সাঁতরাগাছি সেতু মেরামতির কাজ শুরু হচ্ছে। শুক্রবার বেলা ১ টা নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই জানান হাওড়া সিটি পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি। সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন তিনি এও জানান, শনিবার সকাল থেকে সাঁতরাগাছি সেতুতে যান নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হবে।  


পুলিশ কমিশনার জানান, আন্দুল রোড ও হাওড়া-আমতা রোডের যে যে অংশগুলো খারাপ ছিল, সেগুলোকে দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে এই সেতুর সংস্কারের দরুন হাওড়া শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থা মসৃণ হয়। পাশাপাশি আন্দুল রোড ও হাওড়া-আমতা রোডের বেশ কয়েকটি স্থানে মজুত করা হবে টোইং ভ্যান, যাতে রাস্তায় কোনও গাড়ি খারাপ হয়ে দাঁড়িয়ে গেলে ওই ভ্যানের সাহায্যে দ্রুত তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। এই লক্ষ্যে নয়টি টোইং ভ্যানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলেই জানান পুলিশ কমিশনার। 


এছাড়াও যদি রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স যাতে সুষ্ঠভাবে যাতায়াত করতে পারে তাঁর জন্য প্রয়োজন হলে বড় পণ্যবাহী ট্রলারগুলোকে কোনা হাইওয়ে দিয়ে নিবেদিতা সেতু মারফৎ টালা ব্রিজ দিয়ে কলকাতায় প্রবেশ করানো হবে বলেই জানান তিনি। সাধারণ মানুষ ও গাড়ি চালকদের রাস্তা বোঝার সুবিধার জন্য রাস্তায় রাস্তায় বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে লেখা বিশেষ বোর্ড ও সাইনবোর্ড টাঙানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। 


হাওড়া শহরের মধ্যে দিয়ে যে ভারী পণ্যবাহিত ট্রলার যাতায়াত করে তাঁর জন্য বিশেষ নির্দেশিকা শুক্রবার জারি করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আন্দুল রোডের ক্ষেত্রে রাত ১০ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত টোটো ও অটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান কমিশনার। 


সাঁতরাগাছি সেতুর যে অংশটি খোলা থাকবে, সেখানে গাড়ির চাপ বুঝে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত করা হবে। যানজট যাতে না হয়, তাঁর জন্যই বহুদিন আগে থেকে হুগলি, ব্যারাকপুর, সল্টলেক, কলকাতা ও হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা বারবার আলোচনাতে বসেছেন। প্রশাসনের উচ্চ স্তরের কর্তাদের নিয়ে আলোচনাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে পুলিশ ও বিভিন্ন এজেসির মধ্যে যোগাযোগ সূত্র ভালো ভাবে কাজ করে বলে জানান হাওড়া সিটি পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি। 


তিনি জানান, এই কাজের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী নামানো হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত কনস্টেবল মোতায়েনের মঞ্জুরিও পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাতে দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য সমস্ত দফতর কাজ করবে একসাথে। সেতু বন্ধের দুই-তিনদিন নজর রাখা হবে কোন কোন রাস্তায় কতটা গাড়ির চাপ থাকছে। সেভাবেই সম্ভাব্য সমস্ত রাস্তাগুলোকেই ব্যবহার করা হবে।

 

প্রসঙ্গত, রাজ্য পূর্ত দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে ১৯ তারিখ শনিবার রাত ১১ থেকে ভোর ৫ টা অবধি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে সাঁতরাগাছি সেতু। এছাড়াও ওই দিন ভোর ৫ থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত কলকাতাগামী একমুখী লেন খোলা রাখা হবে। ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে এই কাজ চলবে গোটা ডিসেম্বর মাস অবধি। প্রায় দেড় মাস যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


গত ১২ নভেম্বর শুক্রবার হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রভীন ত্রিপাঠি সহ ট্রাফিক বিভাগের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা বৈঠক করেন। এছাড়াও তাতে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের লালবাজার ট্রাফিক কন্ট্রোলের আধিকারিকরা ও রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরের বাস্তুকারেরা। 

 

যে কদিন ব্রিজ মেরামতির কাজ চলবে সেই কয়দিন কোনও পণ্যবাহী ট্রাক চলতে দেওয়া হবে না সেতুর ওপর দিয়ে। সেক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রাক রাত দশটার পর কলকাতার দিক থেকে চলাচল করতে পারবে। দ্বিতীয় সেতুর টোল প্লাজা পেরিয়ে আন্দুল রোড হয়ে জাতীয় সড়কের উদ্দেশ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। 


অপরদিকে পণ্যবাহী ট্রাক কলকাতায় ঢুকতে ঢুকবে রাত দশটার পর নিবেদিতা সেতু হয়ে। যদিও ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৯ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে ট্রাফিক মুভমেন্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


পূর্ত দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে সাঁতরাগাছি সেতুর কলকাতা অভিমুখে ২১ টি একপানশন জয়েন্ট খারাপ হয়েছে । প্রথমে সেগুলো ঠিক করা হবে। যদিও এর আগে ২০১৬ সালে সেতুতে সাঁতরাগাছি অভিমুখী লেনের একপানশন জয়েন্ট সরানো হলেও কলকাতা অভিমুখী লেনের কাজ হয়নি। এই সেতু হয়ে প্রতিদিন প্রায় সত্তর হাজার গাড়ি চলাচল করে, যার দরুন সেতুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পরীক্ষা করে দেখা হয়। আর খারাপ হওয়া একপ্যানশন জয়েন্ট ঠিক না করলে বড়সড় দুর্ঘটনা সম্ভবনা রয়েছে।


হাওড়া ও কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ৭০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। আর এই তথ্য সামনে আসার পরই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্নের। 


সেতু বন্ধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই দেড় মাস ধরে চলবে সেতুর মেরামতি করার কাজ। ইতিমধ্যেই ওই রাস্তা ব্যবহারকারি  গাড়ির উপরে সমীক্ষা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সমীক্ষায় প্রকাশ কোনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দৈনিক ৭০ হাজার গাড়ি চলে। যদিও গোটা প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করতে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৮০০ পুলিশকর্মী মোতায়েত করা হবে বলেই ট্রাফিক সূত্রের খবর। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গার্ডরেল ও ভ্যান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। যে কোনও সমস্যা হলে এবং যানজট হলে সহজেই তার মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

 

গুজরাতের মোরবিতে ঝুলন্ত সেতুর দুর্ঘটনা থেকে আগাম শিক্ষা নিয়ে এবার রাজ্যের বিভিন্ন সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিকে নজর দিয়েছে নবান্ন। দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুরাতন ও ব্যাস্ত সেতুগুলোর হালহকিকত জানতে সেগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিকে গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। 

 

আবার ছয় বছর বাদে রাজ্য পূর্ত দফতর ও কেএমডি-এর ইঞ্জিনিয়াররা সেগুলিকে ফের মেরামতির প্রয়োজন আছে বলেই রাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরেই সাঁতারাগাছি সেতুকে চার লেনের সেতুতে পরিণত করার পরিকল্পনা এখনও বিশ বাঁও জলে পড়ে রয়েছে। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ পূর্ব রেলের জায়গাতে অদূর ভবিষ্যতে যদি ওই চার লেনের সেতু নির্মাণের কাজ রাজ্য সরকার শুরু করতে পারে সেক্ষেত্রে নিত্যযাত্রী সহ ওই রাস্তায় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। 


এছাড়াও সেতুর এই সম্প্রসারণের কাজের জন্য আটকে রয়েছে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মতো বাবুঘাট থেকে সাঁতরাগাছিতে বাস স্ট্যান্ড সরিয়ে আনার কাজও।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad