কোনও মহিলাকে স্ত্রীধন বা আর্থিক সংস্থান থেকে বঞ্চিত করা পারিবারিক সহিংসতা, রায় হাইকোর্টের - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 27 December 2022

কোনও মহিলাকে স্ত্রীধন বা আর্থিক সংস্থান থেকে বঞ্চিত করা পারিবারিক সহিংসতা, রায় হাইকোর্টের


স্বামীর মৃত্যুর পর নারীকে স্ত্রীধন বা আর্থিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা গার্হস্থ্য সহিংসতা, মামলার রায় দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক মহিলা। এই মামলায় আদালত বলে, স্ত্রীকে বঞ্চিত করা পারিবারিক সহিংসতা। এই মামলার শুনানিকালে হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি শুভেন্দু সামন্ত এই রায় দেন। উল্লেখ্য, স্ত্রীধন হল সেই উপাদান, যা স্বেচ্ছায় মেয়ের বিয়েতে তার পরিবার উপহার হিসাবে দেয়।


হাইকোর্টের একক বেঞ্চের বিচারপতি শুভেন্দু সামন্ত বলেন, “বাদীকে আর্থিক বা অর্থনৈতিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা পারিবারিক সহিংসতার সমান হবে। এক্ষেত্রে এটা সত্য যে, আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীধন থেকে বঞ্চিত ছিলেন, যা অন্য পক্ষের দখলে ছিল। এই বাস্তব পরিস্থিতিতে স্ত্রীর সম্পত্তি রাখাও পারিবারিক সহিংসতার সমান।" পাশাপাশি, বিচারপতি শুভেন্দু সামন্ত এই বিষয়ে হাওড়ার একটি নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেই সিদ্ধান্তে, হাওড়ার নিম্ন আদালত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং বলেছিল যে বিধবাকে তার শ্বশুর এবং শাশুড়ির কাছ থেকে কোনও আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন নেই।


প্রসঙ্গত, হাওড়া আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এসেছিলেন ওই মহিলা। ২০১০ সালে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর দুদিন পর তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। কোনও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়নি। স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রী কোনও অংশ পায়নি, যৌতুকে প্রাপ্ত কোনও সম্পত্তিও স্ত্রী পায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে মামলা করেন। বিষয়টি নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে পৌঁছায়।  হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীকে আর্থিক সহায়তা বা স্ত্রীধন থেকে বঞ্চিত করা পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad