'পাশে আছে রাজ্য সরকার-পর্ষদ', ফাঁদে পা না দিতে প্রাথমিকে চাকরিহারাদের বার্তা তৃণমূল নেতার - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 14 May 2023

'পাশে আছে রাজ্য সরকার-পর্ষদ', ফাঁদে পা না দিতে প্রাথমিকে চাকরিহারাদের বার্তা তৃণমূল নেতার


'পাশে আছে রাজ্য সরকার-পর্ষদ', ফাঁদে পা না দিতে প্রাথমিকে চাকরিহারাদের বার্তা তৃণমূল নেতার 





নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম, ১৪ মে: প্রাথমিকে চাকরিহারাদের নিয়ে বোলপুরে বৈঠক তৃণমূল নেতার৷ তৃণমূল নেতা তথা বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি প্রলয় নায়েক রবিবার প্রায় ৮০০ জন চাকরিহারাদের নিয়ে বৈঠক করেন৷ আইনি পথে যাওয়া সংক্রান্ত বিষয় সহ বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বৈঠকে। 


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রাথমিকে সাড়ে ৪২ হাজার পদে নিয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৬ হাজার জনই ছিলেন ওই মুহূর্তে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক। ২০১৬ সালের নিয়োগ নিয়ম মেনে হয়নি, এই অভিযোগে ১৪০ জন পরীক্ষার্থী মামলা করেছিলেন। আরও অভিযোগ উঠেছিল, ঐ নিয়োগের সময় কোন অ্যাটিটিউড টেস্ট নেওয়া এবং সংরক্ষণের নীতি মানা হয়নি। সেই নিয়ে দীর্ঘ শুনানি হয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় কী রায় দেন, সেদিকেই নজর ছিল সকলের। আর শুক্রবার নজিরবিহীন রায় দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। একসঙ্গে ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে, বাকি প্রশিক্ষিতদের চাকরি বহাল থাকছে। 


চাকরিহারাদের এই তালিকায় বীরভূম জেলায় রয়েছে প্রায় ৮০০ জন৷ এদিন, বোলপুর শ্রীনন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের জেলার চাকরি হারাদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূল নেতা প্রলয় নায়েক৷ তিনি বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পদে রয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়৷ এদিন বৈঠকে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের দেখা যায়, কার্যত ভেঙে পড়তে। পাশাপাশি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই। 


তৃণমূল নেতা তথা বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি প্রলয় নায়েক বলেন, "সম্প্রতি আদালত যে রায় দিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তরফ থেকে আমাদের জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে বসা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ বা কর্মসূচি কী হবে।' তিনি জানান, তাদের এই লড়াইয়ে রাজ্য সরকার, শিক্ষামন্ত্রী ও পর্ষদ তাদের সঙ্গে আছে।"


তিনি বলেন, 'এই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বা প্রলোভন ও ফাঁদ প্রচলিত হয়। এদিন সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা কোনও প্রলোভন বা ফাঁদে পা না দেন।'


বৈঠকে যোগ দিতে আসা এক শিক্ষক সুরজ শেখ জানান, সংগঠনের তরফে এদিন বসা হয়েছে আগামী কর্মসূচি কী হবে, সেই নিয়ে‌। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, 'অ্যাপটিটিউড টেস্টের ফুল ফর্ম কি শুধু চক-ডাস্টার-বোর্ড? তিনি বলেন, সমস্ত পদ্ধতি মেনে আমাদের নিয়োগ হয়েছেন। নিয়োগ অবৈধ, এর কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি বলেও দাবী করেন তিনি। তিনি এও বলেন, 'এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাদের আদালতের রায় পছন্দ নাও হতে পারে, আমরা আমাদের মত লড়ব।'


অপর এক শিক্ষক অভিজিৎ মণ্ডল মোবাইলে তালিকা দেখিয়ে বলেন, "আমরা সকলকেই অ্যাপটিটিউড টেস্টে এক, দুই বা দেড় এমন নম্বর পেয়ে চাকরি পেয়েছি। আমরা প্রতিটা ধাপের প্রমাণ তুলে ধরতে পারি।" চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আজ ৬ বছর পর হঠাৎ কয়েকজনের মনে হল অ্যাপটিটিউড টেস্ট হয়নি, এটা কোনও কারণ হতে পারে?' তার কথায়, 'আমরা দুর্নীতিগ্ৰস্ত তার কি প্রমাণ আছে?' ইন্টারভিউয়ে বা অ্যাপটিটিউড টেস্টে ফুল মার্কস পাওয়া যাবে না, ভারতের সংবিধানে কোথায় লেখা আছে? প্রশ্ন ওই শিক্ষকের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad