কিডনি বিকল হতে চলেছে বলে দেবে এইসব লক্ষণ, সতর্ক হন সময় থাকতেই - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, November 12, 2025

কিডনি বিকল হতে চলেছে বলে দেবে এইসব লক্ষণ, সতর্ক হন সময় থাকতেই


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১২ নভেম্বর ২০২৫: কিডনি আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি। এটি রক্ত পরিশোধন করে, বর্জ্য অপসারণ করে এবং তরল ভারসাম্য বজায় রাখে। কিডনি রক্তচাপ এবং লোহিত রক্তকণিকা নিয়ন্ত্রণ করে এমন হরমোনও তৈরি করে। তবে, কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় না, তাই বেশিরভাগ মানুষ বুঝতেও পারেন না যে, তাঁদের কিডনি রোগ আছে যতক্ষণ না অবস্থা গুরুতর হয়। পরিসংখ্যান দেখায় যে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ জানেন না যে, তাঁদের কিডনি রোগ আছে। কিডনি ফেইল হওয়ার আগে কিছু উপসর্গ দেখা দেয় শরীরে। যেমন -


প্রস্রাবের পরিবর্তন

প্রস্রাবের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করলে, এটিকে হালকাভাবে নেবেন না, কারণ এটি কিডনি বা মূত্রাশয়ের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ঘন ঘন বা কম প্রস্রাব, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব করা, ফেনা, বুদবুদ, বা প্রস্রাবে রক্ত এবং গাঢ় বা অস্বাভাবিক প্রস্রাবের রঙ; এই সমস্ত লক্ষণগুলি শরীরের কোনও সমস্যা নির্দেশ করে। গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধ করার জন্য অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।


ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনি যখন এরিথ্রোপয়েটিন নামক হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তখন শরীরে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়। এর ফলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা পায়, যার ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং অলসতা দেখা দেয়। ব্যক্তি পরিশ্রম না করেও ক্লান্ত বোধ করতে পারে এবং মনোযোগ দিতে অসুবিধা হতে পারে। যদি এই অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে এটি কিডনির কার্যকারিতার প্রতিবন্ধকতার লক্ষণ হতে পারে।


শ্বাসকষ্ট

কিডনি যখন বিকল হয়ে যায়, তখন শরীরে তরল এবং বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়, যা ফুসফুসের ওপর চাপ বাড়ায়। এই অবস্থার ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কিছু লোক অল্প সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়, এমনকি শুয়ে থাকার সময়ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। যদি এই সমস্যাটি অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি কিডনি এবং হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।


বমি এবং বমি বমি ভাব

কিডনি সঠিকভাবে কাজ করলে শরীর থেকে বর্জ্য এবং বিষাক্ত পদার্থ বের হয় না। এই বিষাক্ত পদার্থ রক্তে জমা হয় এবং পাকস্থলীকে প্রভাবিত করে, যার ফলে ক্ষুধা হ্রাস, পেটে ভারী ভাব, বমি বমি ভাব বা বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি, কখনও কখনও খাবারের গন্ধেও অস্বস্তি বোধ হয়। যদি এই লক্ষণগুলি অব্যাহত থাকে, তবে এগুলি কিডনি ব্যর্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।


মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা মানসিক বিভ্রান্তি

কিডনি যখন সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট এবং বিষাক্ত পদার্থের ভারসাম্য ব্যাহত হয়। এটি মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহকে প্রভাবিত করে, যার ফলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা মনোযোগ দিতে অসুবিধার মতো সমস্যা হতে পারে। কখনও কখনও, একজন ব্যক্তি ভুলে যাওয়া বা মানসিক বিভ্রান্তিও অনুভব করতে পারেন। যদি এই লক্ষণগুলি অব্যাহত থাকে, তাহলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।


কোন পরীক্ষাগুলি কিডনির অবস্থা প্রকাশ করে?

রক্ত পরীক্ষা (ক্রিয়াটিনিন, BUN, eGFR): ক্রিয়েটিনিন এবং BUN (রক্ত ইউরিয়া নাইট্রোজেন) পরীক্ষা থেকে বোঝা যায় যে, কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ কতটা ভালোভাবে অপসারণ করছে। eGFR (আনুমানিক গ্লোমেরুলার ফিল্টারেশন রেট) থেকে বোঝা যায় যে, কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত ফিল্টার করছে। ১৫ এর নিচে eGFR থাকলে কিডনি ব্যর্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


প্রস্রাব বিশ্লেষণ: এটি প্রস্রাবে প্রোটিন, রক্ত বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পদার্থের জন্য পরীক্ষা করে। প্রস্রাবের রঙ এবং পরিমাণও মূল্যায়ন করা হয়।


ইমেজিং পরীক্ষা (আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান): এটি কিডনির আকার, আকৃতি এবং গঠন পরীক্ষা করে। পাথর, টিউমার বা ব্লকেজের মতো সমস্যা সনাক্ত করা যেতে পারে।


কিডনি বায়োপসি: কিছু ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা অভ্যন্তরীণ ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করার জন্য কিডনি টিস্যুর নমুনা নেন।


কিডনি ব্যর্থতা প্রতিরোধে যা করা যায় -

নিয়মিত চেকআপ করান, বিশেষ করে যদি আপনার পারিবারিকভাবে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকে অথবা আপনার বয়স ৬০ বছরের বেশি হয়।


রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, কারণ এগুলি কিডনির প্রধান রোগ।


বর্জ্য পদার্থ সহজে নির্মূল করার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।


লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া সীমিত করুন।


ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।


ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক বা সম্পূরক গ্রহণ করবেন না।


নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং সুষম খাদ্য খান।


কিডনি রোগ ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, তবে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং যত্ন এটি প্রতিরোধ করতে পারে। শুধুমাত্র সময়মত রোগ নির্ণয় কিডনি ব্যর্থতা প্রতিরোধ করতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad