আয়ুর্বেদ মতে, শরীরের অগ্নি বা হজমশক্তি যত ভালো হয়, খাবার তত ভালোভাবে হজম হয়। ওলং চা এই হজমশক্তিকে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। ফলে খাবার দ্রুত ও ঠিকভাবে হজম হয়।
এই চায়ে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের শক্তি বাড়ায়। যখন শরীর বেশি শক্তি খরচ করে, তখন জমে থাকা চর্বি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাই নিয়মিত ওলং চা পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ওলং চা উপকারী বলে মনে করা হয়। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, রক্ত পরিষ্কার ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকলে হৃদয় সুস্থ থাকে। ওলং চা রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা গেছে, এই চা খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদয়ের ওপর চাপ কম পড়ে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ওলং চা ধীরে কিন্তু ভালো কাজ করে। আয়ুর্বেদ বলে, মন ও শরীর একে অপরের সঙ্গে জড়িত। শরীর শান্ত থাকলে মনও শান্ত থাকে।
ওলং চায়ে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান মস্তিষ্ককে শান্ত করতে সাহায্য করে। এতে অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে, যা ক্লান্তি দূর করে। এই ভারসাম্য মনকে সতেজ ও শান্ত রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ওলং চা গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদ মতে, শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমলে নানা রোগ হয়। ওলং চা শরীর পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানের মতে, এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে বাইরের জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার শক্তি দেয়। নিয়মিত পান করলে শরীর ছোটখাটো অসুখের সঙ্গে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে।
ওলং চা দার্জিলিংয়ের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় উৎপন্ন এক ধরনের চা। এটি নানা স্বাদেরও হয়।
ওলং চা বানাতে প্রথমে একটি পাত্রে জল ফুটান। তারপর এক চামচ চা পাতা দিন। কিছুক্ষণ ফুটিয়ে জল রঙ বদলালে ছেঁকে নিয়ে পান করুন।

No comments:
Post a Comment