প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০০:০১ : জ্যোতিষ শাস্ত্রে পিতৃ দোষ একটি অত্যন্ত গুরুতর দোষ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দোষ মূলত পূর্বপুরুষ বা পিতৃপুরুষদের আত্মার অসন্তুষ্টির কারণে সৃষ্টি হয়। যখন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ, তর্পণ, দান-পুণ্য বা যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না, তখন তাঁদের অসন্তোষ কুণ্ডলীতে পিতৃ দোষ রূপে প্রকাশ পায়।
জ্যোতিষ মতে, পিতৃ দোষ প্রধানত কুণ্ডলীর ৯ম ভাব (পিতৃ ভাব), সূর্য, চন্দ্র এবং রাহু-কেতুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই দোষ ব্যক্তির জীবনে নানা ধরনের বাধা ও দুর্ভোগ নিয়ে আসে। তবে সঠিক নিয়মে প্রতিকার করলে পিতৃপুরুষদের কৃপা লাভ করা সম্ভব।
পিতৃ দোষ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
যখন কুণ্ডলীতে সূর্যের উপর রাহু-কেতু বা শনির প্রভাব পড়ে, অথবা ৯ম ভাবে পাপগ্রহ অবস্থান করে, তখন পিতৃ দোষ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ-তর্পণ নিয়মিত না করলেও এই দোষ দেখা যায়।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, পিতৃপুরুষরা তৃপ্ত না হলে বংশধরদের জীবনে কষ্টের কারণ হন। পিতৃ দোষ সাধারণত তিন প্রকার—
সূর্যের উপর রাহু বা কেতুর প্রভাব – পিতা বা পূর্বপুরুষ সংক্রান্ত সমস্যা
৯ম ভাবে পাপগ্রহের অবস্থান – পিতৃকুল থেকে দুর্ভোগ
পিতৃ ঋণ – পূর্বপুরুষদের প্রতি কর্তব্য অবহেলা বা অপরাধের ফল
এই দোষ অনেক সময় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে এবং কুণ্ডলীতে স্পষ্ট না থাকলেও জীবনের সমস্যার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
পিতৃ দোষের প্রধান লক্ষণ
পিতৃ দোষ থাকলে জীবনে ও পরিবারে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়—
সংসারে বারবার অশান্তি ও কলহ
সন্তান লাভে বিলম্ব বা সন্তান সংক্রান্ত সমস্যা
পিতা বা পূর্বপুরুষদের অসুস্থতা বা অকাল মৃত্যু
আর্থিক অনটন, ঋণ বৃদ্ধি ও অর্থ স্থায়ী না থাকা
হঠাৎ রোগ, দুর্ঘটনা বা নেতিবাচক ঘটনা
সন্তানের বিদ্রোহী স্বভাব বা পড়াশোনায় বাধা
স্বপ্নে বারবার পূর্বপুরুষদের দেখা
বিয়ে বা দাম্পত্য জীবনে সমস্যা
যদি এই লক্ষণগুলির মধ্যে ৩–৪টি নিয়মিত দেখা যায়, তবে কুণ্ডলী পরীক্ষা করানো উচিত।
পিতৃ দোষের প্রভাব জীবনে কীভাবে পড়ে?
পিতৃ দোষ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে—
আর্থিক জীবন: উপার্জন থাকলেও সঞ্চয় হয় না, ব্যবসায় ক্ষতি
পারিবারিক জীবন: সম্পর্কের টানাপোড়েন, সন্তানের কষ্ট
স্বাস্থ্য: অজানা রোগ, মানসিক চাপ, অনিদ্রা
কর্মজীবন: চাকরিতে বাধা, পদোন্নতি আটকে যাওয়া
আধ্যাত্মিক জীবন: পূজা-পাঠে মন না বসা
অনেক শাস্ত্রে বলা হয়েছে, পিতৃ দোষের প্রভাব ৭ প্রজন্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে নিয়মিত প্রতিকার করলে এই দোষ শান্ত হয়।
পিতৃ দোষ নিবারণের কার্যকর উপায়
পিতৃ দোষ থেকে মুক্তি পেতে নিচের শাস্ত্রসম্মত উপায়গুলি অনুসরণ করুন—
শ্রাদ্ধ ও তর্পণ: প্রতি বছর পিতৃ পক্ষ ও অমাবস্যায় তিল-জল দিয়ে তর্পণ করুন
পিণ্ডদান: গয়া বা প্রয়াগে পিণ্ডদান সর্বোত্তম; সম্ভব না হলে বাড়িতেও করা যায়
দান-পুণ্য: অমাবস্যায় কালো তিল, কম্বল, জুতো-চটি, শস্য দান করুন (গোপন দান শ্রেষ্ঠ)
পিপল পূজা: শনিবার বা অমাবস্যায় পিপল গাছে জল দিন, ১১ বার প্রদক্ষিণ করুন
নারায়ণ বলি পূজা: গুরুতর দোষে এই বিশেষ পূজা অত্যন্ত কার্যকর
হনুমান আরাধনা: প্রতিদিন হনুমান চালিসা পাঠ করুন
মৌনী অমাবস্যায় মৌন ব্রত: মৌন থেকে দান ও পূজা করলে বিশেষ ফল মেলে
উপসংহার
পিতৃ দোষ জীবনের অন্যতম বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। তবে শ্রদ্ধা, নিয়মিত শ্রাদ্ধ-তর্পণ এবং সৎকর্মের মাধ্যমে এই দোষ নিবারণ সম্ভব। পিতৃপুরুষদের তৃপ্ত করলে বংশে সুখ-সমৃদ্ধি আসে এবং বহু প্রজন্ম পর্যন্ত তাঁদের আশীর্বাদ বজায় থাকে।

No comments:
Post a Comment