কলকাতা, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩৫:০১ : সন্দেশখালিতে আবারও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এবার পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিক-সহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা মুসা মোল্লার বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর সমর্থকরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবী পুলিশের। পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনায় নয়জনকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় বেআইনিভাবে জমি দখলের অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে মুসা ওই জমিতে দেওয়াল নির্মাণ শুরু করেন। খবর পেয়ে রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ রাতেই মুসার বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে থানায় যাওয়ার জন্য বলে।
অভিযোগ, সেই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, এরপর মুসা তাঁর অনুসারীদের ডেকে নেন। এরপর একদল লোক পুলিশের উপর হামলা চালায়। ইট-পাথর ছোড়া হয়, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এই সংঘর্ষে এক পুলিশ অফিসার-সহ চারজন আহত হন। তাঁদের মিনাখান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা রাত টহলদারি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর হামলার ঘটনায় বারবার শিরোনামে এসেছিল সন্দেশখালি। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে শাহজাহান শেখের বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে ইডির উপর হামলা হয়। ইডির দাবি ছিল, সেদিন শাহজাহানের প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ জন অনুসারী তাদের ঘিরে ধরে। ওই হামলায় ইডির তিনজন আধিকারিক আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, যাদের মধ্যে একজনের মাথার খুলি ভেঙে গিয়েছিল। সেদিন শাহজাহানের দেখা না পাওয়ায় ইডিকে অভিযান অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরতে হয়।

No comments:
Post a Comment