মহাভারতের শ্লোকে কি লুকিয়ে আধুনিক বিশ্বের মানচিত্র? জানুন পিপল পাতা আর খরগোশের আকৃতির রহস্য - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, January 1, 2026

মহাভারতের শ্লোকে কি লুকিয়ে আধুনিক বিশ্বের মানচিত্র? জানুন পিপল পাতা আর খরগোশের আকৃতির রহস্য



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:০০:০১ : আজকের দুনিয়ায় আমরা মোবাইল ফোন খুলে মাত্র এক ক্লিকেই গোটা পৃথিবী দেখে নিতে পারি। গুগল আর্থ হোক কিংবা আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আজ পৃথিবীর মানচিত্র যেন আমাদের হাতের মুঠোয়। স্কুলে পড়ুয়া শিশুরাও ছোট্ট একটি গ্লোব ঘুরিয়ে সহজেই চিনে নেয় কোনটা এশিয়া, কোনটা আফ্রিকা। প্রযুক্তির কল্যাণে মনে হয়, পুরো বিশ্ব যেন আমাদের চোখের সামনে উন্মুক্ত।


কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, পৃথিবীকে একটি সম্পূর্ণ একক হিসেবে দেখার এই ধারণা কি একেবারেই আধুনিক যুগের আবিষ্কার? নাকি হাজার হাজার বছর আগেই এই ভাবনা আমাদের প্রাচীন গ্রন্থে লুকিয়ে ছিল?

ইতিহাসের পাতায় পিছিয়ে তাকালে দেখা যায়, আমাদের পুরাণ ও মহাকাব্যগুলো শুধুমাত্র যুদ্ধ, রাজা-রাজড়া বা বীরগাথায় সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে এমন অনেক জ্ঞান লুকিয়ে আছে, যা আজকের দিনে এসে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। তার অন্যতম বড় উদাহরণ—মহাভারত।

মহর্ষি বেদব্যাস রচিত এবং গণেশের দ্বারা লিখিত মহাভারত কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার। এই মহাকাব্যেই এমন একটি শ্লোক পাওয়া যায়, যা পড়লে মনে হয় যেন হাজার হাজার বছর আগেই কেউ পৃথিবীকে উপর থেকে দেখেছিলেন। স্যাটেলাইট, গ্লোব কিংবা আধুনিক মানচিত্রের বহু আগেই সেখানে পৃথিবীর আকৃতি ও বিভাজনের এক অদ্ভুত বর্ণনা রয়েছে।

মহাভারতে পৃথিবীর মানচিত্রের ইঙ্গিত?
মহাভারতের ভীষ্ম পর্বে এই রহস্যময় শ্লোকটির উল্লেখ পাওয়া যায়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে রাজা ধৃতরাষ্ট্র তাঁর দূত সংজয়ের কাছে জানতে চান—পৃথিবী দেখতে আসলে কেমন? উত্তরে সংজয় যে বর্ণনা দেন, সেটাই আজকের দিনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শ্লোকটি হলো—
“সুদর্শনং প্রবক্ষ্যামি দ্বীপং তু কুরুণন্দন,
পরিমণ্ডলো মহারাজ দ্বীপোऽসৌ চক্রসংস্থিতঃ।
যথা হি পুরুষঃ পশ্যেদাদর্শে মুখমাত্মনঃ,
এবং সুদর্শনদ্বীপো দৃশ্যতে চন্দ্রমণ্ডলে।
দ্বিরংশে পিপ্পলস্তত্র দ্বিরংশে চ শশো মহান্।”

শ্লোকের সহজ অর্থ কী?
এই শ্লোকের অর্থ সহজভাবে করলে দাঁড়ায়—
হে কুরুবংশের সন্তান, ‘সুদর্শন দ্বীপ’ নামে পরিচিত এই পৃথিবীটি গোলাকার। এটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে, যেন কেউ আয়নায় নিজের মুখ দেখছে, তেমনই চন্দ্রমণ্ডল থেকে পৃথিবীকে দেখা যায়। এই পৃথিবী চারটি ভাগে বিভক্ত, যার মধ্যে দুইটি অংশ পিপল গাছের পাতার মতো আকৃতির এবং বাকি দুইটি অংশ দেখতে অনেকটা খরগোশের মতো।

পিপল পাতা ও খরগোশের আকারে পৃথিবী!
এই বর্ণনা শুনলে প্রথমে অবাক লাগতেই পারে। কিন্তু গবেষক ও অনেক চিন্তাবিদ মনে করেন, এই রূপকগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর মানচিত্রের ইঙ্গিত। বলা হয়, যদি এই আকারগুলিকে কল্পনায় উল্টে বা ঘুরিয়ে দেখা যায়, তাহলে তা আধুনিক পৃথিবীর মানচিত্রের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।
অনেকে মনে করেন,
পিপল পাতার মতো অংশ এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ
আর খরগোশের আকৃতির অংশ আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের দিকে ইঙ্গিত করে
এটি নিছক কাকতালীয় নাকি প্রাচীন জ্ঞানের নিদর্শন—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে ভাবেন কবিত্বপূর্ণ কল্পনা, আবার কেউ বলেন এটি ঋষিদের অসাধারণ দৃষ্টিশক্তির প্রমাণ।

বিজ্ঞান না আধ্যাত্মিক জ্ঞান?
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—যে সময়ে এই শ্লোক রচিত হয়েছিল, তখন না ছিল বিমান, না ছিল মহাকাশযান, না ছিল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। তবুও মহাভারতে পৃথিবীকে গোলাকার বলা হয়েছে। যেখানে ইউরোপে বহু শতাব্দী ধরে মানুষ বিশ্বাসই করত যে পৃথিবী চ্যাপ্টা।

এই কারণেই অনেক গবেষকের ধারণা, প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানচর্চায় বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতা আলাদা ছিল না। ধ্যান, সাধনা ও গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা এমন অনেক সত্য উপলব্ধি করেছিলেন, যা আধুনিক বিজ্ঞান বহু পরে আবিষ্কার করেছে।

একে একেবারে অলৌকিক বলে উড়িয়ে দেওয়াও যেমন ঠিক নয়, তেমনই অস্বীকার করাও সহজ নয়। সত্যটা হয়তো এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও লুকিয়ে।

মহাভারত, বেদ ও অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থে সৌরজগত, গ্রহের গতি, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর পরিক্রমা, জলচক্র, এমনকি গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ সম্পর্কেও বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া যায়। আধুনিক বিজ্ঞানের বহু তত্ত্বের সঙ্গে এসব ধারণার মিল থাকায় আজ গোটা বিশ্ব নতুন চোখে ভারতীয় শাস্ত্রগুলোকে পড়ছে—শুধু ধর্ম নয়, বিজ্ঞান হিসেবেও।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad