দুর্ভাগ্য কি আপনার পিছু ছাড়ছে না? গরুড় পুরাণে উল্লেখিত ৫ সতর্ক সংকেত - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, January 23, 2026

দুর্ভাগ্য কি আপনার পিছু ছাড়ছে না? গরুড় পুরাণে উল্লেখিত ৫ সতর্ক সংকেত



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০০:০১ : গরুড় পুরাণে মৃত্যু, পুনর্জন্ম এবং জীবনের নানা ইঙ্গিতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। এই পুরাণ অনুযায়ী, জীবনে দুর্ভাগ্য ও কষ্ট বাড়ার পেছনে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ থাকে, যা মানুষের কুণ্ডলি, কর্ম এবং বর্তমান জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। গরুড়জির প্রশ্নের উত্তরে ভগবান বিষ্ণু জানান, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও আচরণ জীবনে দুর্ভাগ্যকে আহ্বান করে আনে। এই লক্ষণগুলো সময় থাকতে চিনে নিয়ে সংশোধন করতে পারলে মানুষ সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—গরুড় পুরাণ অনুযায়ী দুর্ভাগ্য বৃদ্ধির ৫টি প্রধান লক্ষণ এবং সেগুলি থেকে মুক্তির উপায়।




১. কলহপ্রিয় স্ত্রী ও ঘরে অশান্তি

গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, যদি গৃহস্থ জীবনে স্ত্রী সর্বদা কলহপ্রবণ, ক্রোধী ও ঝগড়াটে হন, তবে তা বড় দুর্ভাগ্যের লক্ষণ। এমন স্ত্রী সংসারের সুখ-শান্তি নষ্ট করেন এবং স্বামীর ভাগ্যকেও প্রভাবিত করেন। ঘরে নিয়মিত ঝগড়া, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিবাদ এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার অভাব আর্থিক ক্ষতি, স্বাস্থ্যহানি ও সন্তানের কষ্ট ডেকে আনে।

উপায়:

স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই সংযম ও বিনয় অবলম্বন করতে হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘরে ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে ‘ॐ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করুন। স্ত্রীকে হনুমান চালিসা পাঠ করতে দিন এবং স্বামীকে লক্ষ্মীপূজায় অংশ নিতে হবে। এতে সংসারে শান্তি আসে ও দুর্ভাগ্য কমে।



২. মূর্খ ও অজ্ঞ সন্তান

পুরাণে বলা হয়েছে, যদি সন্তান মূর্খ, অজ্ঞ, অলস বা ধর্মবিমুখ হয়, তবে তা পূর্বজন্মের পাপ কর্ম এবং বর্তমান দুর্ভাগ্যের ইঙ্গিত। এমন সন্তান পরিবারকে এগোতে বাধা দেয় এবং মা–বাবাকে আজীবন কষ্ট দেয়। গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, সন্তানের অজ্ঞতা পিতৃঋণ ও পূর্বপুরুষদের অসন্তুষ্টির লক্ষণও হতে পারে।

উপায়:

সন্তানের নামে পিতৃতর্পণ ও শ্রাদ্ধ করা উচিত। প্রতিদিন বাড়িতে গণেশ অথর্বশীর্ষ বা সরস্বতী মন্ত্র জপ করান। সন্তানকে সাত্ত্বিক জীবনযাপন ও সৎসঙ্গের পথে রাখুন। এতে সন্তানের বুদ্ধি বাড়ে এবং পরিবারের ভাগ্যোন্নতি হয়।



৩. ঘরে অর্থাভাব ও আর্থিক বাধা

গরুড় পুরাণে অর্থের অভাব ও বারবার আর্থিক ক্ষতিকে দুর্ভাগ্যের স্পষ্ট লক্ষণ বলা হয়েছে। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যবসায় নিয়মিত ক্ষতি বা অর্থ হাতে না থাকা—এসব পূর্বজন্মের ঋণ ও পিতৃদোষের ফল।

উপায়:

ঘরে লবণের পাত্র সবসময় ভরা রাখুন। শনিবার কালো তিল ও কালো কাপড় দান করুন। প্রতিদিন লক্ষ্মী স্তোত্র বা ‘ॐ শ্রীং হ্রীং ক্লীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ’ জপ করুন। এতে অর্থপ্রবাহ বাড়ে এবং আর্থিক দুর্ভাগ্য দূর হয়।



৪. স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি ও রহস্যজনক রোগ

পুরাণে বলা হয়েছে, বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া বা এমন রোগ যা চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারেন না—এগুলো বড় দুর্ভাগ্যের লক্ষণ। এটি প্রেতবাধা, পিতৃদোষ বা গ্রহদোষের কারণে হতে পারে। এমন অবস্থায় মানুষের ভাগ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।


উপায়:

প্রতিদিন হনুমান চালিসা পাঠ করুন। ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। অশ্বত্থ (পিপল) গাছে জল দিন ও ১১ বার প্রদক্ষিণ করুন। নারায়ণ বলি বা পিতৃশ্রাদ্ধ করালে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় এবং দুর্ভাগ্য কমে।


৫. পরিবারে নিয়মিত অশান্তি ও সম্পর্কের দূরত্ব

গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, পরিবারের মধ্যে নিয়মিত কলহ, সম্পর্কের অবনতি ও পারস্পরিক অবিশ্বাস দুর্ভাগ্যের অন্যতম বড় লক্ষণ। ঘরে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও ঐক্য নষ্ট হলে তা পূর্বজন্মের পাপ ও বর্তমান কর্মের ফল।


উপায়:

প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে ‘ॐ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ জপ করুন। পরিবারের সবাই মিলে হনুমান চালিসা বা রামরক্ষা স্তোত্র পাঠ করুন। ঘরে গণেশ ও লক্ষ্মীর মূর্তি স্থাপন করুন। এতে পারিবারিক ভালোবাসা বাড়ে ও দুর্ভাগ্য দূর হয়।



উপসংহার

গরুড় পুরাণ আমাদের শেখায়—দুর্ভাগ্য কোনো স্থায়ী নিয়তি নয়। এটি কর্ম ও আচরণের ফল। কলহপ্রিয় স্ত্রী, অজ্ঞ সন্তান, আর্থিক বাধা, স্বাস্থ্যহানি ও পারিবারিক অশান্তি—এই লক্ষণগুলো সময় থাকতেই সংশোধন করা সম্ভব। পিতৃতর্পণ, হনুমান পূজা, সাত্ত্বিক জীবনযাপন ও দান-পুণ্যের মাধ্যমে এই দুর্ভাগ্য দূর করা যায়।

জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আনতে আজ থেকেই এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad