মুর্শিদাবাদ, ২০ জানুয়ারি ২০২৬: নিখোঁজ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী গলাকাটা দেহ উদ্ধার। ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়ায়। মঙ্গলবার দুপুরে এলাকার এক মাঠ থেকে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর দেহ উদ্ধার হয়।
জানা গিয়েছে, সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল সাগরপাড়া থানার পাঁজরাপাড়া গ্রামের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সাহিন মণ্ডল, বয়স ১৬ বছর। এ বছর সীতানগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই এই অঘটন। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির কাছাকাছি একটি পেয়াঁজের জমি থেকে ওই পড়ুয়ার গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাগরপাড়া থানার পুলিশ। মাঠ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময়ে পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণ মৃতদেহ আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা। একমাত্র সন্তানের খুনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে মৃতের মা সাগরা বিবি পুলিশের গাড়ির সামনে বসে পড়েন।
ঘটনার জেরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ নিয়ে যেতে পারেনি। পরে ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের লোকজনকে বুঝিয়ে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সোমবার রাতেই পরিবারের লোকজন সাগরপাড়া থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ নেয়নি। ফলে পুলিশ খুনের খবর পেয়ে গ্রামে পৌঁছালে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
জানা গিয়েছে, গ্রামে আত্মীয়-পরিজন, বন্ধুবান্ধব সব জায়গায় খোঁজ করে কোথাও সাহিনের সন্ধান না পেয়ে রাত দুটো নাগাদ সাগরপাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে যান পরিবারের লোকজন। অভিযোগ, ওই গভীর রাতে থানার ডিউটি অফিসার নিখোঁজের ডায়েরি নিতে অস্বীকার করেন। এমনকি মঙ্গলবার সকালেও থানায় গেলে তাঁর 'বাবা-মা না এলে অভিযোগ নেওয়া হবে না, বলে পুলিশ জানায়।
এর পরে এদিন দুপুরে পেঁয়াজের জমির মধ্যে গ্রামের বাসিন্দা হাসান শেখ ওই মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা মাঠে পৌঁছে মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
তবে ঠিক কী কারণে এই খুন, পুলিশের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। খুনের নির্দিষ্ট কারণ পুলিশ জানাতে না পারলেও ঘটনাস্থলে রক্ত দেখে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খুন করে রাতের অন্ধকারে পেঁয়াজের জমিতে নিয়ে এসে মৃতদেহ ফেলে রেখে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
মৃতের বাবা রমজান আলী মণ্ডল বলেন, 'ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় স্টার পাবে বলেছিল। বলেছিল, 'তুমি এত পরিশ্রম করো না। আমি স্কলারশিপ পেয়ে পড়তে যাব। তোমার কোনও খরচ দিতে হবে না। সোমবার সন্ধ্যায় ঘুরে এসে পড়তে বসবে বলে তাঁর মাকে বলে। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে ওই রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। সর্বত্র খোঁজ করেও তার সন্ধান পাইনি।'
রমজান জানান, গ্রামের মধ্যে তাঁর কোনও শত্রু নেই। জমি সংক্রান্ত বিবাদ বা ধার-দেনার ব্যাপারও নেই। কেন এই খুন তিনি বুঝতে পারছেন না।

No comments:
Post a Comment