ন্যাশনাল ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি ২০২৬: স্কুলে পড়তে-পড়তে ভালোবাসা, একসঙ্গে ঘর থেকে নিখোঁজ চার ছাত্রী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের গয়া জেলার দেলহা থানা এলাকায়। ১৬ জানুয়ারী অনুগ্রহ কন্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের চার নাবালিকা ছাত্রী হঠাৎ করে তাঁদের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। স্কুলে পড়ার সময় চারজন একে অপরের প্রেমে পড়ে যায় বলে খবর। এদিকে ছাত্রীদের নিখোঁজের খবর পেয়ে তাঁদের পরিবার দ্রুত দেলহা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এসএসপি সুশীল কুমারের নির্দেশে, চার নাবালিকা ছাত্রীকে খুঁজে বের করার জন্য সিট (এসআইটি) দল গঠন করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, ওই ছাত্রীরা বক্সারে থাকতে পারে। এসআইটি দল সেখানে পৌঁছালে জানা যায় মেয়েরা দিল্লীতে পৌঁছে গিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পুলিশ বিমানে করে দলটিকে দিল্লীতে পাঠায়।
দিল্লীতে পৌঁছানোর পর পুলিশ জানতে পারে যে, চার নাবালিকার মধ্যে দুজন ছেলেদের ছদ্মবেশ নিয়েছিল। সূত্রের খবর, এই মেয়েরা একই স্কুলে পড়ত এবং তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বন্ধন এতটাই দৃঢ় হয়ে ওঠে যে তারা একে অপরকে ছাড়া থাকতেই চায় না। এই কারণেই তাঁরা বাড়ি থেকে পালানো এবং নিজ সাথীদের সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
টাউন ডিএসপি (২) ধর্মেন্দ্র ভারতী মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গয়া পুলিশ যখন দিল্লীতে পৌঁছায়, তখন দুই মেয়ে ছেলেদের ছদ্মবেশে ছিল, যা পুলিশ কর্তাদেরও অবাক করে। তিনি বলেন, পুলিশ চার নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করে গয়াতে ফিরিয়ে এনেছে।
ডিএসপি ধর্মেন্দ্র ভারতী আরও বলেন যে, সমস্ত নাবালিকার জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হবে এবং পরিবারকে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ এই মামলায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই ঘটনাটি কেবল গয়া জেলায় নয়, রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ক্ষেত্রে, নাবালিকা শিশুদের নিরাপত্তা, তাদের মানসিক অবস্থা এবং তাদের পরিবারের যত্নের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। পুলিশ আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, যদি কোনও নাবালক বা নাবালিকা না জানিয়ে ঘর থেকে বের হয়, তাহলে তার মারাত্মক পরিণতি হতে পারে এবং এটি প্রতিরোধে সতর্ক থাকা জরুরি।

No comments:
Post a Comment