নদিয়া, ২০ জানুয়ারি ২০২৬: রাতের অন্ধকারে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়ি ও তাঁত কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ উঠল শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি বলে দাবী। ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গবারচর এলাকায়। অভিযোগ, গোবারচর এলাকার বাসিন্দা পবিত্র বিশ্বাস তথা বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি নেতার বাড়িতে ও তাঁতের কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন সকলে।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, যেহেতু তিনি বিজেপি করেন, সেই কারণে এর আগেও তার ও তার পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। দিন কয়েক আগেই তৃণমূলের কয়েকজন দুষ্কৃতীরা তার বাড়িতে চড়াও হয়। মঙ্গলবার ভোরবেলা হঠাৎ আগুন লাগার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর তাঁতের কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নেভানোর আগেই সম্পূর্ণ কারখানা ভস্মীভূত হয়ে যায়। কারখানায় দুটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল সেগুলো আগুনে পুড়ে যায়।
এ বিষয়ে পবিত্র বিশ্বাস বলেন, 'আমরা যখন ঘুম থেকে উঠে দেখি আগুন লেগেছে ঠিক তখন পেট্রোলের গন্ধ পাই সেখান থেকে। আমাদের অনুমান তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের একটাই অপরাধ, আমরা বিজেপি করি।'
এ বিষয়ে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, 'এই এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাছে বন্দুক-বোমা মজুদ রয়েছে। প্রশাসন সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমরা ২৪ ঘন্টা সময় দিচ্ছি, যদি দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার না হয় তাহলে গোটা শান্তিপুর ক্ষোভের আগুনে জ্বলবে। আর কিভাবে রাস্তায় নামতে হয় আমরা দেখিয়ে দেব।'
এদিকে বিজেপির তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে তৃণমূল। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা বৃন্দাবন প্রামাণিক জানান, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই তৃণমূল জড়িত নয়। বিজেপির কাজ শুধু দাঙ্গা লাগানো, আর আগুন লাগানো। বিজেপির কোনও হুমকিতে তৃণমূল ভয় পায় না। বিজেপি আগুন লাগাতে চাইলে সেটা কিভাবে নেভাতে হয় তা তৃণমূল জানে।
অপরদিকে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে আসে শান্তিপুর থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

No comments:
Post a Comment