উত্তর ২৪ পরগনা, ০৪ জানুয়ারি ২০২৫: পুলিশ ফোর্স নিয়ে এলে ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে দেবেন না বলে আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। এবারে অশোকনগর থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হুঙ্কার, "ঠাকুরবাড়িতে ‘শক্তি প্রদর্শন’ বরদাস্ত নয়।"
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠাকুরবাড়ি সফর ঘিরে ক্রমশই চড়ছে রাজনীতির পারদ। অশোকনগর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠাকুরবাড়ি সফরকে ঘিরে সীমানা টেনে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। রবিবার অশোকনগর–কল্যাণগড় পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। অশোকনগরের একেরতিন মোড়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করেন।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুরের গলায় শোনা যায় একের পর এক অভিযোগ। তিনি বলেন, এসআইআর থেকে শুরু করে রাজ্যবাসী সবাই বঞ্চনার শিকার। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আগামী ৯ তারিখ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আসতে পারেন। তবে শক্তি প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না।
এই প্রসঙ্গেই তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "কেউ যদি ঠাকুরবাড়িতে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আসেন, তাহলে পুজো দিতে দেওয়া হবে না। তবে সাধারণভাবে সীমিত নিরাপত্তা নিয়ে আসা হলে এবং পুজো দিয়ে ফিরে গেলে কোনও আপত্তি নেই।"
শান্তনু ঠাকুর আরও বলেন, "ঠাকুরবাড়িকে নাকাবন্দি করে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা শক্তি প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না। শক্তি দেখানোর জন্য অন্য জায়গা রয়েছে।" তাঁর অভিযোগ, মুসলিম ভোট হাতছাড়া হওয়ায় এখন মতুয়া ভোটের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল।কিন্তু ঠাকুরবাড়িকে সেই কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
শান্তনুর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৯ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠাকুরনগর-ঠাকুরবাড়ি সফর কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেটাই এখন দেখার।
উল্লেখ্য, এর আগে শান্তনু বলেছিলেন, "স্বাভাবিকভাবে ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে প্রচুর পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসেন ঠাকুরবাড়িতে, সেটা শক্তি প্রদর্শন ছাড়া কিছু না। ও আসে ফোর্স দেখাতে। যদি এইভাবে আসে কোনও ভাবে ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে দেব না। হাজার হাজার মতুয়া জমায়েত হবে, ধিক্কার মিছিল চলতে থাকবে।'
পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃত করার অভিযোগ এবং সেইসঙ্গে ক্ষমা চাইবার দাবীও তোলেন শান্তনু।

No comments:
Post a Comment