উত্তর ২৪ পরগনা: টেবিলের ওপর সাজানো থরে-থরে নোটের বান্ডিল, আর পাশেই চেয়ারে বসে তৃণমূল নেতা। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্কের ঝড়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বারাসত ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল বসে আছেন টাকার পাহাড়ের একপাশে আর তার পাশে বসে রয়েছেন এক ব্যবসায়ী। সেইসঙ্গে ফোনে ব্যবসায়ীর কথোপকথন, 'নগদ না ফাইনান্সে নেবে'।
জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর নাম রাকিবুল ইসলাম। ভিডিওতে যে টাকার পাহাড় দেখা গেছে তাতে কার্যত মুখ ঢেকে গিয়েছে রাকিবুলের। আর তাঁর পাশেই বসে গিয়াসউদ্দিন। রাকিবুলকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। এমনকি তাঁকে এও বলতে শোনা যায় যে, "অনেকগুলো মডেল আছে, নগদ দেবে না ফাইনান্সে?" এর কিছু সময় পর এক ব্যক্তি একটি বড় ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হন এবং ওই ব্যাগে ভরা হয় টাকাগুলো।
ডিভিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোড় বিতর্ক। তবে, গিয়াসউদ্দিন জানিয়েছেন, "এটি ২০২২ সালের, কোনও কিছু নিয়ে লেনদেন হচ্ছিল। তিনি শুধু পাশে বসে ছিলেন, এতে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই।" অন্যদিকে রাকিবুলের বক্তব্য, 'জমি কেনা বেচার টাকা গোনা হচ্ছিল।'
গিয়াসউদ্দিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, "এটা ২০২২ সালের পুরনো ভিডিও। আমার বন্ধুবান্ধবরা জমি কিনেছিল, তার লেনদেন চলছিল। এটুকুই জানি।" রাকিবুল বলেন, "ভিডিওটি দু'বছর আগের। যতদূর মনে পড়ছে জমি লেনদেনের টাকা। গিয়াসউদ্দিন জমির পার্টনার ছিলেন। ওটা আমার অফিস না, কাজীপাড়ার একটি জায়গা। আমি পার্টনারশিপে ছিলাম। সবার উপস্থিতিতেই লেনদেন হয়েছে।"
এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, এরপরেও থামেনি বিতর্ক। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের খোঁচা, "তৃণমূল নেতাদের চরিত্র এটাই। ভিডিও আসায় আবার তা স্পষ্ট হয়ে গেল।"
কে এই ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেছেন, তা জানা না গেলেও এটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, "গিয়াসউদ্দিন তৃণমূলের নেতা, একজন জমি মাফিয়া। ওর কাছ থেকে এই ধরণের টাকা পাওয়া স্বাভাবিক। আমরা অনুব্রত, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখেছি।" বিজেপি নেতার কথায়, "তৃণমূল আজ বাংলা লুট করছে। আমরা চাই অবিলম্বে ইডি এর তদন্ত করুক, কেন্দ্রীয় সরকার এটা দেখুক।"
অপরদিকে, বারাসত এক ব্লক তৃণমূলের আহ্বায়ক মোঃ ইশা হক সর্দার জানিয়েছেন, ভিডিওর সত্যতা ও দোষ প্রমাণিত হলে দলের তরফের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথা থেকে এত টাকা এল, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

No comments:
Post a Comment